ডিএমপি কমিশনার

নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে ডিএমপির ২৫ হাজার সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে

এই নির্বাচনে আমরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও প্রশ্নাতীত নিরপেক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে এমন একটি মানদণ্ড স্থাপন করবো, যা ভবিষ্যতের জন্য অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ডিএমপি কমিশনার শেখ মো: সাজ্জাত আলী
ডিএমপি কমিশনার শেখ মো: সাজ্জাত আলী |ইন্টারনেট

নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) প্রায় ২৫ হাজার সদস্যকে নির্বাচন সংক্রান্ত বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো: সাজ্জাত আলী।

আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টু রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে ডিএমপি কর্তৃক গৃহীত নিরাপত্তা পরিকল্পনা সংক্রান্ত’ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।

নির্বাচন উপলক্ষে ডিএমপির গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এ বছর ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় মোট দুই হাজার ১৩১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এক হাজার ৬১৪টি ভোটকেন্দ্রে ন্যূনতম চারজন করে এবং সাধারণ ৫১৭টি কেন্দ্রে তিনজন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।

তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি কন্ট্রোলরুমের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণের জন্য থাকবে বডি ওর্ন ক্যামেরা। ভোটকেন্দ্রের বাইরে নিরাপত্তার জন্য থাকবে ১৮০টি স্ট্রাইকিং টিম ও ৫১০টি মোবাইল টিম।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, এছাড়া ঢাকা মহানগরীর আটটি ডিভিশনে আটটি পৃথক কন্ট্রোল রুম এবং চারটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হবে। মোতায়েন থাকবে স্পেশাল রিজার্ভ ফোর্স। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি নেতৃত্বে থাকা এসব ফোর্স প্রয়োজনে দ্রুত যেকোনো স্থানে মোতায়েন করা যাবে।

তিনি বলেন, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সোয়াট, বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ডগ স্কোয়াড, ক্রাইম সিন ভ্যান ও অশ্বারোহী পুলিশ মোতায়েন থাকবে।

তিনি আরো বলেন, নানা কারণে এবারের নির্বাচন আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে নির্বাচনে পুলিশকে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, সে কালিমামুক্ত হয়ে জাতিকে একটি অর্থবহ ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সাজ্জাত আলী বলেন, যে ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে দেশ একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে উপস্থিত হয়েছে, তা এগিয়ে নিতে আমরা ইস্পাত কঠিন মনোবল নিয়ে প্রস্তুত রয়েছি।

তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনে আমরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও প্রশ্নাতীত নিরপেক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে এমন একটি মানদণ্ড স্থাপন করবো, যা ভবিষ্যতের জন্য অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।’

নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘আপনারা নিশ্চিন্তে, নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে এসে নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করুন।’

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পূর্ব থেকেই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে কাজ শুরু করে। এর অংশ হিসেবে নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ডিএমপির প্রায় ২৫ হাজার সদস্যকে নির্বাচন সংক্রান্ত বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এই প্রশিক্ষণ আসন্ন নির্বাচনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য পুলিশ সদস্যদের স্বীয় দায়িত্ব ও কর্তব্য নিরপেক্ষভাবে পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। যেকোনো সময়ের চেয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানের জন্য নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

সূত্র : বাসস