নির্বাচনে প্রস্তুত, তবে কোনো চক্রান্ত আছে কি না; আশঙ্কা জামায়াতের

অনলাইন প্রতিবেদক
কথা বলছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের
কথা বলছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের |নয়া দিগন্ত

নির্বাচন চাই, নির্বাচন হওয়া উচিত এবং নির্বাচন ফেব্রুয়ারি মাসে যদি হয় তাতে আমাদের কোনো ধরনের আপত্তি নাই জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন, নির্বাচনে যাওয়ার প্রস্তুতি আমাদের আছে। কিন্তু নানা ষড়যন্ত্র দেখছি। কারণ এখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের ব্যাপারে সরকার তেমন কোনো স্টেপ নেয় নাই।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের অনেকগুলো কাজ। যেমন, প্রবাসীদের ভোটার করা। তারপরে বিভিন্ন আইন তৈরি করা, ভোটার লিস্টকে আপডেট করা, প্রবাসীদের ভোটার করা, তাদের (সরকার) কমিটমেন্ট আছে প্রবাসী ভোটের ব্যাপারে, সেটা এখনো করে নাই। অলরেডি ছয় মাস পার হয়েছে। তাহলে আমরা যদি ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন ধরে নেই, তাহলে এসব প্রস্তুতি তো আরো জোরদার হতে পারে। সেজন্যই আমাদের কাছে একটু আশঙ্কা লাগে, কোনো চক্রান্ত আছে কি না।

সোমবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ঐকমত্য কমিশনের সাথে আলোচনার বিরতিকালে জামায়াত নেতা এ কথা বলেন।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, যদি একটা ফেয়ার ইলেকশন হয়, লেভেল ফিল্ড তৈরি হয় তাহলে কিছু আইনের পরিবর্তন দরকার। কে সরকারে যাবে কে বিরোধী দলে যাবে এটা ডিসাইড করবে জনগণ। তবে তার পূর্বশর্ত হচ্ছে, একটা ফ্রি ফেয়ার ক্রেডিবল ইলেকশন। ইলেকশনে মানুষ যে রায় দেবে সে রায়কে আমরা মাথা পেতে নেব এবং আমি মনে করি, এই নির্বাচনে জনগণ জেতা উচিত।

তিনি বলেন, আজকের বৈঠকে মূলত সাংবিধানিক এবং সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পিএসসি’র (পাবলিক সার্ভিস কমিশনে) উপরেই আমাদের আজকের আলোচনা হচ্ছে। তো আলোচনার শুরুতেও একটুখানি আমাদের আজকে পার্লামেন্ট (জাতীয় ঐকমত্য হাউস) একটু উত্তেজিত হয়েছিল।

তিনি বলেন, আগে থেকেই কয়েকটি সাংবিধানিক কমিটি স্বাধীন ছিল। এখানে সরকারের হস্তক্ষেপ করার কোনো আইনগত সিস্টেম ছিল না। কিন্তু আমরা দেখছি, নিয়ম যেটাই হোক ড্রয়ার থেকে একটা স্লিপ বের হয় এবং সেই স্লিপ অনুসারেই নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ কারণে অনেক মেধাবী ছেলেরা রাজনীতিক কারণে চাকরি পায়নি। অনেক মেধাবী লোকেরা রাজনীতিক কারণে চাকরি হারিয়ে ফেলেছে এবং এটার জন্য সবচেয়ে বেশি সাফার করেছে রাষ্ট্র।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, আমরা বলি, সচিবালয়ে স্বৈরাচারের প্রেতাত্মারা আছে। তো তাইলে এরা কারা? এরা হচ্ছে তারা যারা স্বৈরাচার মেরিটকে বাদ দিয়া স্লিপের মাধ্যমে, লিস্টের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছে তারা। এরপরে যদি আমরা আবার সে পদ্ধতিতেই নিয়োগ দেই তাহলে মুখের প্রেতাত্মা এখন ঘুরতেছে। তা হলে আমরা কি সারাক্ষণ প্রেতাত্মা আওতায় থাকবো। এজন্য আমরা চাচ্ছি, প্রেতাত্মাকে দূর করতে। যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ আসবে এটা নিশ্চিত করা দরকার। সেজন্যে অধিকাংশ দল এই মতের পক্ষে চূড়ান্তভাবে একমত।