নূরুল ইসলাম বুলবুল

দাঁড়িপাল্লার পক্ষে বিপ্লব সাধনের মাধ্যমে জনগণ পরিবর্তনের পথ তৈরি করবে

নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, দাঁড়িপাল্লা নিরব বিপ্লবের মাধ্যমে পরিবর্তনের পথ তৈরি করবে এবং জামায়াতে ইসলামী ইনসাফ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় জনগণকে নেতৃত্ব দেবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
নূরুল ইসলাম বুলবুল
নূরুল ইসলাম বুলবুল

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো: নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, ‘দাঁড়িপাল্লার পক্ষে নিরব বিপ্লব সাধনের মাধ্যমে জনগণ পরিবর্তনের পথ তৈরি করবে। এদেশের জনগণ যেই পরিবর্তন চায় সেই পরিবর্তনের জন্য জনগণ দাঁড়িপাল্লাকে বাছাই করবে, ইনশাআল্লাহ।’

রোববার (৫ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর কাকরাইলস্থ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের হলরুমে মো: নুরুল ইসলাম বুলবুল দলটির ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নতুন সদস্যদের (রুকন) শপথ পাঠ করান।

শপথ পরবর্তী সভায় নূরুল ইসলাম বুলবুল রুকনদের উদ্দেশে বলেন, ‘শপথের মর্যাদা রক্ষা করে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে। আল্লাহ মুমিনদের মাল ও জান দিয়ে দ্বীন কায়েম করার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ যা নির্দেশ দেন তাই ফরজ বিধান।’

তিনি আরো বলেন, ‘শপথ নেয়া মানেই জান্নাত অর্জন করা নয়, শপথের আলোকে নিজেকে পরিচালিত করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে হবে। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ব্যতীত জান্নাত লাভ করা যায় না। ইসলাম বিদ্বেষীরা জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে বলে, জামায়াতে ইসলামী জান্নাতের টিকেট বিক্রি করে। প্রকৃত সত্য হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী জান্নাতের টিকেট বিক্রি করে না, জান্নাতের পথ দেখায়। ইসলামের শিক্ষা অর্জন এবং বাস্তবায়নের জন্য জামায়াতে ইসলামী গাইলাইন হিসেবে ভূমিকা পালন করে।’

নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘দাঁড়িপাল্লা ইনসাফ ও ন্যায়ের প্রতীক। জামায়াতে ইসলামী এদেশে ইনসাফ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে চায়। জনগণও ইনসাফ ও ন্যায়-ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা চায়। জনগণের চাওয়া আর জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কর্মসূচি একই। তাই জনগণ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ গড়তে এগিয়ে আসবে।’

তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠাকাল থেকে আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন কায়েমের মাধ্যমে ইসলামী সমাজ বিনির্মাণ করে মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করছে। জামায়াতে ইসলামীর সাথে জাতি একবাক্যে নিশ্চয়ই স্বীকার করবে, স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও মানুষের অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়নি। কারণ মানুষের তৈরি মতবাদে সকল শ্রেণিপেশার মানুষের অধিকার ও স্বাধীনতা সমানভাবে নিশ্চিত হয় না। মানুষের তৈরি আইনে কেবলমাত্র যারা আইন তৈরি করেছে তারাই সুবিধা পেয়েছে। কিন্তু আল্লাহর আইনে ইসলামী বিধানে সকল শ্রেণিপেশার, সকল ধর্মবর্ণ, জাতি-গোষ্ঠী সমান সুযোগ-সুবিধা, মর্যাদা ও অধিকার লাভ করে। তাই ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের বিকল্প নেই। জামায়াতে ইসলামীর ৪ দফা কর্মসূচির অন্যতম হচ্ছে সমাজ সংস্কার ও সমাজ সেবা।’

অতীতের মতো দলমত, ধর্মবর্ণ, জাতি-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সমাজ সেবা অব্যাহত রাখতে তিনি উপস্থিত রুকনদের প্রতি আহ্বান জানান।

কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি যথাক্রমে ড. আব্দুল মান্নান ও মো: শামছুর রহমান, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য যথাক্রমে অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন, অধ্যাপক নুর নবী মানিক, আবদুস সালাম, ডা. আতিয়ার রহমান, শেখ শরীফ উদ্দিন আহমদ, কামরুল আহসান হাসান, সৈয়দ সিরাজুল হক সহ মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলরা।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি