পালিয়ে গিয়েও পরাজিত শক্তির ষড়যন্ত্র থেমে নেই : তারেক রহমান

তারেক রহমান বলেন, মানুষ যাতে নিরাপদে চলতে পারে, মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে পারি- ক্ষমতায় গেলে সেটা নিশ্চিত করবে বিএনপি। শুধু ভোটের অধিকার নয়, বিএনপি দেশের মানুষকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চায়।

আবদুল কাদের তাপাদার, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা উপলক্ষে আয়োজিত জনসভা তারেক রহমান
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা উপলক্ষে আয়োজিত জনসভা তারেক রহমান |নয়া দিগন্ত

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলছেন, পরাজিত শক্তি দিল্লি পালিয়ে গিয়েও ষড়যন্ত্র করছে। ওদের ষড়যন্ত্র থেমে নেই। দেশের ভেতরেও একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর ১টায় সিলেট নগরের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদরাসা মাঠে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

২৪-এর গণআন্দোলনে সিলেট শহরে ১৪ জন প্রাণ দিয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ইলিয়াস আলী, দিনার ও জুনায়েদসহ সিলেটের অনেক মানুষ গুমের শিকার হয়েছে। তারা প্রাণ দিয়ে আমাদের মুক্ত করেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও আপনাদের সিলেট শহরে ১৪ জন মানুষ প্রাণ দিয়েছে। একটি কুচক্রী মহল দেশের ভেতরও ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। জুলাই আন্দোলনে দেশের মানুষ প্রমাণ দিয়েছে, কিভাবে ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হয়।

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা হবে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, মানুষ যাতে নিরাপদে চলতে পারে, মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে পারি- ক্ষমতায় গেলে সেটা নিশ্চিত করবে বিএনপি। শুধু ভোটের অধিকার নয়, বিএনপি দেশের মানুষকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চায়। শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়ার আমলে মানুষকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে বিদেশে পাঠানো শুরু হয়। নারীদের শিক্ষিত করতে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়। আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় গেলে সেটা নিশ্চিত করবে বিএনপি।

বিগত ১৫ বছর তথাকথিত উন্নয়নের নামে মানুষের অর্থ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা এই অবস্থার পরিবর্তন করতে চাই। আমরা কৃষকের পাশে দাঁড়াতে চাই। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ী হলে শহীদ জিয়ার খাল খনন করব, নদীতে পানি নিয়ে আসব। আপনারা দেখেছেন, ক’বছর আগে একটি দেশের নদীর ছেড়ে দেয়া পানিতে সিলেট শহর ডুবে গিয়েছিল। আপনারা বিগত সময়ে দেখেছেন কিভাবে একটা দেশকে অন্য দেশের কাছে বন্ধক দেয়া হয়েছে। তাই আমি বলি, দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ। বিএনপির স্লোগান টেইক ব্যাক বাংলাদেশ। তবে এটা এখনো পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। ১২ তারিখের ভোটে ধানের শীষকে বিজয়ী করে টেইক বাংলাদেশ অর্জিত হবে।

তারেক রহমান বলেন, বিগত ১৫ বছর উন্নয়নের নামে বিলিয়ন বিলিয়ন টাকা বিদেশে পাচার করেছে। বিগত ১৫ বছর দেখছি, কিভাবে রাতের ভোট হয়েছে। কিভাবে ভোট চুরি করা হয়েছে। কিভাবে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থানে সেই চোরেরা পালিয়েছে।

তিনি বলেন, এই যে লক্ষ্য মানুষ এখানে উপস্থিত হয়েছেন, আপনাদের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য হাজারো মানুষ জীবন দিয়েছে। ইলিয়াস আলী ও দিনারসহ বহু মানুষকে গুম করেছে। এক বছর আগে পালিয়ে গিয়েছে যারা, তারা এই দেশের মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছে।

ক্ষমতায় গেলে নারীদের উন্নয়নে নানামুখী পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমরা নারীদের ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। যে কার্ড আপনার পরিবারের সহায়তা হবে। তাই সহযোগিতা পেতে হলে নারীদের ধানের শীষে ভোট দিতে হবে। বেগম জিয়া নারীদের শিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছেন। আমরা শিক্ষিত মা-বোনকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই।

সরকারে গেলে বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, সিলেটের বেশিভাগ মানুষ বিদেশে যায়। তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তুলতে চাই। সেটা একমাত্র সম্ভব, যখন ধানের শীষকে বিজয়ী করবেন। বেকারদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তুলতে চাই। নির্বাচিত হলে সরকার থেকে সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করব। যাতে দক্ষ হয়ে আমাদের যুবকরা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

জনসভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা দীর্ঘ ১৫ বছর লড়াই করেছি আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য। এই অধিকার আদায়ে বিলেত থেকে আমাদেরকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন আমাদের নেতা তারেক রহমান। ডা: জুবাইদা রহমানও আমাদের পথ দেখিয়েছেন। দীর্ঘ ১৫ বছর এদেশের জনগণ গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছে, কিন্তু মাথা নত করেনি।

এই সিলেটে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানী, সাইফুর রহমানের মতো গুণীজন জন্ম নিয়েছে উল্লেখ বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি একটি উদার গণতান্ত্রিক দল। গণতন্ত্রের জন্য বিএনপির লড়াই দীর্ঘ।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির বলেন, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী মানেই সিলেট বিভাগের উন্নয়ন। তারেক রহমান মানেই দেশের উন্নয়ন। তাই আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে হবে।

বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা এম এ মালিক বলেন, আগামী নির্বাচনে সিলেটের প্রতিটি আসনে ধানের শীষে ভোট দেবেন। তারেক রহমানকে আমরা প্রধানমন্ত্রী দেখতে চাই।

বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী বলেন, আগামী দিনের ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।

বিএনপি উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আগামীদিনের যুদ্ধ দেশকে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। আগামীদিনের যুদ্ধ আইনের শাসন নিশ্চিত করা। সিলেটে পরিকল্পনার মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। সিলেটে আইটি হাব গড়ে তোলা হবে। আগামীদিনে সকল কৃষি জমিতে সেচের ব্যবস্থা করা হবে। সেটা শুরু করে দিয়ে গেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সাবেক সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এই পূণ্যভূমি সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনে ধানের শীষকে বিজয়ী করে তারেক রহমানকে উপহার দেয়া হবে।

বিএনপির উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্যই ইলিয়াস আলীসহ বহু মানুষ গুম হয়েছে। নির্যাতনের পরীক্ষায় আপনারা উত্তীর্ণ হয়েছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে মানুষকে ভোট কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে। ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে।

সিলেট জেলা সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও জেলা সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীর সঞ্চালনায় জনসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা এম এ মালিক, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জিকে গৌছ, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, কলিমউদ্দিন আহমেদ মিলন ও সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক এমপি শাম্মি আক্তার, যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা এম এ সালাম প্রমুখ।

জনসভায় সিলেট-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট-২ আসনের প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা, সিলেট-৩ আসনের প্রার্থী এম এ মালিক, সিলেট-৪ আসনের প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট-৫ আসনের প্রার্থী ও জমিয়ত সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, সিলেট-৬ আসনের প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল, সুনামগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী নাছির উদ্দীন চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী নুরুল ইসলাম ও সুনামগঞ্জ-৫ আসনের প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনকে পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান।