সেলিম উদ্দিন

নাগরিকদের পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নামা প্রশাসনের ব্যর্থতা প্রকাশ করে

মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদেরকে কেন শহরের পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নামতে হলো? এটা কি সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়? নাগরিকদের যখন নিজেদের হাতে ঝাড়ু নিতে হয়, তখন বুঝতে হবে প্রশাসন ব্যর্থ।’

নিজস্ব প্রতিবেদক
‘ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচি ও চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন
‘ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচি ও চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন |নয়া দিগন্ত

নাগরিকদের পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নামা প্রশাসনের ব্যর্থতা প্রকাশ করে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তর আমির ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ হলে ‘ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচির সর্বশেষ তথ্য এবং দেশের ও ঢাকার চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদেরকে কেন শহরের পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নামতে হলো? এটা কি সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়? নাগরিকদের যখন নিজেদের হাতে ঝাড়ু নিতে হয়, তখন বুঝতে হবে প্রশাসন ব্যর্থ।’

তিনি বলেন, প্রতিবছর একই সমস্যা বারবার ফিরে আসছে। অনেক কিছু কাগজে-কলমে হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। এর ফলে নাগরিক সেবা ও প্রশাসনিক জবাবদিহির যে শৃঙ্খল থাকা প্রয়োজন, তা ভেঙে পড়েছে।

এর আগে ২৭ আগস্ট প্রকাশিত খোলা চিঠিতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কাছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বাজেট, ওয়ার্ডভিত্তিক বর্জ্য অপসারণের পারফরম্যান্স, অভিযোগ নিষ্পত্তির হার এবং প্রতিবছর একই সঙ্কট ফিরে আসার কারণসহ পাঁচটি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট জবাব দাবি করেন তিনি।

সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে সেলিম উদ্দিন বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের কথা বলা হলেও এখন আর কোনো ‘মেকানিজম’ কাজে দেবে না। যত সময় নেয়া হোক না কেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন আর বিলম্ব করা যাবে না।

তিনি বলেন, ‘দ্রুত সিটি করপোরেশন নির্বাচন দিতে হবে, এটাই আমাদের পরিষ্কার দাবি। সবার আগে সিটি নির্বাচন চাই।’

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কোনো ধরনের ব্যর্থতা কিংবা কারচুপির চেষ্টা করা হলে তা মেনে নেয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। স্থানীয় নির্বাচনেও সরাসরি মিডিয়া কাভারেজের মাধ্যমে নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার দাবি জানান তিনি।

জাতীয় নির্বাচন ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সেলিম উদ্দিন বলেন, নির্বাচন হলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে- এমন কথা বলা হলেও বর্তমান ক্ষমতাসীনরা তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকাবাসী এর আগে এমন লোডশেডিং দেখেনি।

‘ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও নাগরিকবান্ধব করে গড়ে তুলতে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পরিচ্ছন্নতা অভিযান কোনো রাজনৈতিক পয়েন্ট স্কোর করার কর্মসূচি নয়; বরং নাগরিক দায়িত্ব ও জবাবদিহির প্রশ্ন থেকেই তারা মাঠে নেমেছেন।

তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে ঢাকা উত্তরের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার পাশ, ড্রেনের মুখ ও খালের ধারে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের বাজেট, জনবল, যানবাহন ও পূর্ণাঙ্গ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ থাকা সত্ত্বেও এসব স্থানে দিনের পর দিন বর্জ্য জমে থাকে কেন- এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।

মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘ইতোমধ্যে বিরোধী দল ছায়া সরকার গঠন করেছে। একইভাবে আমরা ‘ছায়া সিটি করপোরেশন প্রশাসন’ গঠন করব। তবে সেটা কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে।’

তিনি বলেন, জনগণের সামনে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, কাজের মাধ্যমে একটি কার্যকর ও পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনার নমুনা তুলে ধরাই তাদের লক্ষ্য।

‘ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে তিন ধরনের ময়লা আলাদাভাবে রাখার জন্য বিন স্থাপন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। সংগৃহীত বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্ব সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে কলম ও খাতা তৈরি করে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্কুলে পৌঁছে দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ঢাকার ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রসঙ্গে সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা যদি ঢাকা সিটির দায়িত্ব পাই, তাহলে সরকার পুরো বিশ্বে তা নিয়ে গর্ব করবে।’

ঢাকার কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরে কোনো বেকার যুবক থাকবে না।’

দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ উন্নয়ন দেখতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীকে পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব দিয়ে দেখুক।

দায়িত্ব পেলে এমন উন্নয়ন করা হবে, যাতে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে কথা বলতে পারেন বলে দাবি করেন তিনি।

প্রেস ব্রিফিংয়ের শেষ পর্যায়ে ঢাকাবাসীর উদ্দেশ্যে সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘শুধু দেখার জন্য হলেও জামায়াতকে পাঁচ বছর সিটির দায়িত্ব দিন। সরকার দেশ চালাক, আমরা ঢাকা সিটিকে উন্নত ও সমৃদ্ধ নগরীতে গড়ে তুলি।’

তিনি বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য শহর গড়ে তুলতে নতুন কোনো প্রযুক্তির আবিষ্কার প্রয়োজন নেই; প্রয়োজন সদিচ্ছা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি। জনগণের টাকার হিসাব জনগণের জানার অধিকার রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার-মিডিয়া সেক্রেটারি মুহাম্মদ আতাউর রহমান সরকার।