নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত হলেই সত্যিকারের ক্ষমতায়ন সম্ভব : নূরুন্নিসা সিদ্দীকা

নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন তখনই সম্ভব, যখন তার জন্য ঘরে ও বাইরে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে ক্ষমতায়নের কথা বলা বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যদিও বিশ্ব রাজনীতিতে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টি বারবার উচ্চারিত হয়। কিন্তু তাকে ক্ষমতায়িত করার জন্য যে নিরাপদ ও সহায়ক সামাজিক পরিবেশ প্রয়োজন, বাংলাদেশের বাস্তবতায় তার যথেষ্ট ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের লোগো
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের লোগো |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা বলেছেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবস নারীর মর্যাদা, অধিকার, নিরাপত্তা ও মানবিক সম্মান প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আজ রোববার (৮ মার্চ) এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

নূরুন্নিসা সিদ্দীকা বলেন, নারীদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানাতে বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়। সমাজ, রাষ্ট্র ও সভ্যতার অগ্রযাত্রায় নারীর অক্লান্ত শ্রম, ত্যাগ ও অবদানের স্বীকৃতি দিতেই এ দিবস তাৎপর্যপূর্ণ।

তিনি বলেন, এবারের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য ‘আজকের পদক্ষেপ আগামীর ন্যায়বিচার-সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’। এই প্রতিপাদ্য শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব জীবনে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সাম্প্রতিক সময়ে নারী ও কন্যাশিশুর ওপর সহিংসতা, নির্যাতন ও অনিরাপত্তার ঘটনা আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

তিনি আরো বলেন, নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন তখনই সম্ভব, যখন তার জন্য ঘরে ও বাইরে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে ক্ষমতায়নের কথা বলা বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যদিও বিশ্ব রাজনীতিতে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টি বারবার উচ্চারিত হয়। কিন্তু তাকে ক্ষমতায়িত করার জন্য যে নিরাপদ ও সহায়ক সামাজিক পরিবেশ প্রয়োজন, বাংলাদেশের বাস্তবতায় তার যথেষ্ট ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে।

জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি বলেন, ইসলাম নারীদের সর্বোচ্চ মর্যাদা ও সম্মান প্রদান করেছে। আল্লাহর প্রদত্ত অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করে নারীদের এগিয়ে নেয়ার মাধ্যমেই একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে দায়িত্বশীল ব্যক্তির সচেতন ও কার্যকর ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।

সবশেষে তিনি আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে এমন একটি সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, যেখানে নারী নিরাপদ, সম্মানিত ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন-যাপন করতে পারে এবং সমাজ ও রাষ্ট্র নির্মাণে তাদের মেধা ও যোগ্যতার পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারে।