নরসিংদীর মাধবদীতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে বাবার সামনে থেকে জোরপূর্বক অপহরণ, ধর্ষণ এবং পরে নির্মমভাবে হত্যা করার বর্বরোচিত ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ। তিনি এই ঘটনার দ্রুত ও প্রকাশ্যে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, একজন বাবাকে জিম্মি করে তার কিশোরী সন্তানকে ধর্ষণ এবং হত্যা করার মতো বর্বর, নৃশংস ও অমানুষিক অপরাধ আর কী হতে পারে? শিশু ও নারীর প্রতি এই নিষ্ঠুরতা সমাজে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবিলম্বে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত, গ্রেফতার এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আমরা রাষ্ট্রের কাছে বারবার বলছি—এ ধরনের অপরাধে শাস্তি প্রকাশ্যে বাস্তবায়ন করুন।
তিনি আরো বলেন, আইন অনুযায়ী নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। কিন্তু বাস্তবে বিচারহীনতা, প্রভাবশালীদের ছত্রছায়া এবং তদবিরের কারণে অপরাধীরা আরো নির্দয় হয়ে উঠছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ, গণধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা দিন দিন বেড়ে চলেছে, যা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য একটি মারাত্মক হুমকি।
মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ আরো বলেন, দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা এবং দেশের প্রতিটি স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। একইসাথে নিহত কিশোরীর পরিবারকে উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণ, নিরাপত্তা ও সহায়তা প্রদানের দায়িত্ব সরকারকে অবিলম্বে নিতে হবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সরকারের প্রতি আবেদন জানাচ্ছে, এমন নৃশংস অপরাধ প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া, সমাজে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ জোরদার করা এবং নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কারমূলক উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি মসজিদভিত্তিক প্রতিরোধ কমিটি গঠন করতে। জেলাসহ সকল পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে ইমাম, খতিবসহ ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।



