সংসদ সদস্য হিসেবে নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শপথ পড়ানোর পাশাপাশি সংবিধান সংস্কারে যে পরিষদের শপথ পড়ানোর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে, সেটির আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। দলটি নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।
বিএনপি বলছে, সংবিধানের বাইরে গিয়ে তারা এখনই এ ধরনের কোনো পরিষদ গঠনের জন্য প্রস্তুত নয়। তাছাড়া আইনে উল্লেখ না থাকায় পরিষদটির শপথ কে পড়াবেন, সেই প্রশ্নও সামনে আসছে।
সবমিলিয়ে আজ মঙ্গলবার সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে বিএনপি’র সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন কি না, সেটা এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছেন বিএনপির নেতারা।
এতে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ অনুষ্ঠান।
বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার অ্যাভেইলেবল না থাকায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) মঙ্গলবার সকালে সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন। এটা পড়ানোর সাংবিধানিক এখতিয়ার উনার আছে। এর বাইরে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের যে শপথের কথা বলা হচ্ছে, আইনগতভাবে সেটা পড়ানোর এখতিয়ার তার নেই।’
সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হলে সংবিধান সংশোধনসহ দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে বলে মনে করেন চারবারের এই সংসদ সদস্য।
‘এটা যদি সংবিধানে ধারণ করা হয়, সেই মর্মে সংবিধান সংশোধন হয় এবং সেই শপথ পরিচালনার জন্য যদি সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে ফরম হয়; কে শপথ পাঠ করাবেন, সেটা যদি নির্ধারিত হয়, তাহলে তখন, অর্থ্যাৎ এতগুলো ‘হয়’ বা শর্ত পূরণের পরে শপথ হলে হতে পারে,’ বিবিসি বাংলাকে বলেন বিএনপি’র নীতি-নির্ধারণী ফোরামের সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
যদিও মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ, উভয়ক্ষেত্রে শপথ পড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে অর্ন্তবর্তী সরকার।
নবনিযুক্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সোমবার নিজ দফতরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘(মঙ্গলবার) সকালে দুই দফায় সংসদ সদস্যদের শপথ হবে। একটা তো তারা (নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা) সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন। তার পরবর্তীকালে এই যে সংস্কার, সেটার জন্য শপথ নেবেন।’
তবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী বিভিন্ন দলই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার পক্ষে বলে জানা গেছে।



