বিচারাঙ্গনকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারে নিয়ে আসার বিরোধী এনসিপি

‘আজকে জরুরি অবস্থা এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জরুরি অবস্থা জারির বিষয়ে আমাদের একটি অবস্থান ছিল, তিনটি ভাগে ভাগ করার কথা বলেছিলাম।’

অনলাইন প্রতিবেদক

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জাবেদ রাসিন বলেছেন, ‘বিচারাঙ্গনকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারে নিয়ে আসার কারণে পলিটিসাইজ করা হয়েছে। সেটির বিরোধী আমরা। কোনোভাবেই বিচারাঙ্গনকে এই ভূমিকায় দেখতে চাই না।’

সোমবার (১৩ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সাথে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

জাবেদ রাসিন বলেন, ‘আজকে জরুরি অবস্থা এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জরুরি অবস্থা জারির বিষয়ে আমাদের একটি অবস্থান ছিল, তিনটি ভাগে ভাগ করার কথা বলেছিলাম। একটি হচ্ছে যুদ্ধ, আরেকটি হচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা মহামারী, আরেকটি হচ্ছে অভ্যন্তরীণ গোলযোগ। তবে অভ্যন্তরীণ গোযোগের পরিবর্তে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব কিংবা ভূখণ্ড অখণ্ডতার প্রশ্নে যদি কোনো জরুরি অবস্থা জারির প্রয়োজন দেখা দেয়, সেক্ষেত্রে সরকার জরুরি অবস্থা জারি করতে পারবে। এবং জরুরি অবস্থা জারির ক্ষেত্রে আগে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে অবস্থা জারি করতে পারতেন, সেটা এখন মন্ত্রিসভায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমাদের দলের পক্ষ থেকে একমত পোষণ করেছি।’

তিনি বলেন, ‘জরুরি অবস্থার সময় সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, সে ক্ষেত্রে এক্সিকিউটিভের কাছে থাকাই বাঞ্ছনীয়। একইসাথে বিরোধী দলের একটি উপস্থিতির প্রস্তাব এসেছিল কমিশনের আলোচনায়। আমরা সেক্ষেত্রে বলেছি, বিরোধী দলের প্রধান তিনি বৈঠকে উপস্থিত হতে পারেন এবং তার মতামত তিনি প্রদান করতে পারেন।’

এনসিপির এ নেতা বলেন, ‘জরুরি অবস্থা বিষয়টাই তো জরুরি, সেক্ষেত্রে এক্সিকিউটিভকে (নির্বাহী) অনেক সময় তুলে সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে কিন্তু জরুরি অবস্থা যেন পলিটিসাইজ করা না হয়, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত না হয় সেটার ব্যাপারে কিন্তু সবগুলো রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে।’

একমত হওয়ায় বিষয়ে আসলে আইনি কাঠনামে আপনারা কিভাবে করতে চাচ্ছেন, বাস্তবায়নটা কিভাবে হবে?— এমন প্রশ্নের জবাবে জাবেদ রাসিন বলেন, ‘আমরা গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন চাই। নতুন করে সংবিধান লিখতে চাই। তো সেক্ষেত্রে কমিশনের পক্ষ থেকে আমাদেরকে ছয়টি অপশন দেয়া আছে। কিভাবে এই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে? সেই বিষয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। সবগুলো বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোর পর আমরা সেই বিষয়ে আলোচনা করবো। তখন এটি তখন আলোচনার পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’