বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশকে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অপশাসন ও দুঃশাসনমুক্ত করতে দীর্ঘ পরিসরে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে এবং সে লক্ষ্যে আপসহীন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
বুধবার (২২ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারস্থ আল ফালাহ মিলনায়তনে শিল্পাঞ্চল থানা জামায়াত আয়োজিত ইউনিট দায়িত্বশীল সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
থানা আমির কলিম উল্লাহর সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও হাতিরঝিল জোন পরিচালক হেমায়েত হোসেন ও সহকারী জোন পরিচালক মু. আতাউর রহমান সরকার।
উপস্থিত ছিলেন হাতিরঝিল পূর্ব থানার আমির অ্যাডভোকেট শেখ জিল্লুর রহমান আজমী, শিল্পাঞ্চল থানা নায়েবে আমির মোহাম্মদ উল্লাহ ভূইয়া হারুন, থানা সেক্রেটারি নুর উদ্দিন মোহাম্মদ জাহিদ প্রমুখ।
এ সময় সেলিম উদ্দিন বলেন, অধিকারবঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জামায়াত সবসময়ই আপসহীন ছিল এবং আগামী দিনেও থাকবে। আমরা দেশকে ন্যায়-ইনসাফের ভিত্তিতে কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করে ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে সকল শ্রেণির অধিকার প্রতিষ্ঠা ও নিরাপত্তা প্রদান করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, স্বাধীনতার পর যোগ্য, প্রতিশ্রুতিশীল, দেশপ্রেমী ও তাকওয়াবান নেতৃত্বের অভাবে জনগণ প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী স্বাধীনতার সুফল ভোগ করতে পারেনি। তাই তারা প্রচলিত ও গতানুগতিক রাজনীতির ওপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে আগামী দিনে জামায়াতকেই রাষ্ট্র ক্ষমতায় দেখতে চাচ্ছে।
তিনি বলেন, সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ জামায়াতের পক্ষেই রায় দিয়েছিল। কিন্তু সে গণরায় ছিনিয়ে নিয়ে জামায়াতকে প্রাপ্য ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তারা দেশে আর ফ্যাসিবাদী অপশাসন-দুঃশাসন দেখতে চায় না। দেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে সকলকে ময়দানে আপসহীন থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, ঢাকা নগরীর মানুষ নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জামায়াতের দিকে তাকিয়ে আছে। নতুন সরকার জনজীবনে মৌলিক সমস্যা সমাধানে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
তেল সঙ্কটের কথা উল্লেখ করে মহানগরী উত্তর আমির বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত তেল আছে বলে জনগণকে ধোঁকা দেয়া হচ্ছে। দীর্ঘ লাইন ধরেও মানুষ তেল পাচ্ছে না।
তিনি জুলাই সনদ সম্পর্কে বলেন, জুলাই সনদের পক্ষে ৭০ ভাগ মানুষ রায় প্রদান করেছে। কিন্তু তা অমান্য করে রীতিমতো গণবিরোধিতায় লিপ্ত হয়েছে। ক্ষমতার চেয়ারে বসে মানুষের মতামতকে উপেক্ষা করা শুভ লক্ষণ নয়; বরং চরম ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।
তিনি সরকারকে অতীত ফ্যাসিবাদের ন্যায় স্বৈরাচারী পথে না হেঁটে মানুষের প্রত্যাশার আলোকে রাষ্ট্র সংস্কারে জুলাই সনদ পুরোপুরি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। অন্যথায় সরকারের বিরুদ্ধে গণবিরোধিতার অভিযোগ উঠবে।



