সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়া আধিপত্যবাদীরা চায় না : রিজভী

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, এদেশের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের অনেকেই সীমান্ত সমস্যা নিয়ে কথা বলেন না। কারণ তাদেরকে ‘কিনে রাখা হয়েছিল’।

অনলাইন প্রতিবেদক
বক্তব্য রাখছেন অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী
বক্তব্য রাখছেন অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হোক সেটা আধিপত্যবাদী শক্তিরা চায় না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, এদেশের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের অনেকেই সীমান্ত সমস্যা নিয়ে কথা বলেন না। কারণ তাদেরকে ‘কিনে রাখা হয়েছিল’।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার (৩১ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘কোনো পরাশক্তি একটি দেশে তার অস্তিত্ব জানান দেয়ার জন্য এবং তার প্রভাব বলয় তৈরি করার জন্য প্রথমেই সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে তাদের মতো করে সাজায়—ধ্বংস করে না, সাজায়। অর্থাৎ এখানকার জাতীয়তাবাদী চেতনায় লালিত যে সাংস্কৃতিক অঙ্গন এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব—সে অভিনয় শিল্পী হোক, সংগীত শিল্পী হোক, গীতিকার হোক, কবি হোক, লেখক হোক, সে পেইন্টার হোক, যাই হোক না কেন—সে যদি জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ থাকে, তাহলে তার সমস্ত শিল্পকর্মের মধ্যে দেশ ও দেশপ্রেম ফুটে উঠবে। আধিপত্যবাদী শক্তি সেটা চায় না; তারা চায় তাদের মতো, যারা তাদের গুণগান গাইবে এবং তাদের প্রশস্তি গাইবে। এ কারণে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তারা নিজেদের লোক সেট করে বা বসায়। তারা সেটাই করেছে।’

তিনি আরো বলেন, “আমাদের সীমান্ত হচ্ছে রক্তাক্ত সীমান্তের প্রতীক, মৃত্যুর প্রতীক। অথচ আমাদের দেশের কিছু সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব একটা টু শব্দও করেনি। আজকে ওই দেশে যারা সংখ্যালঘু, তাদের কোনো নাগরিক স্বাধীনতা নেই, উৎসবের স্বাধীনতা নেই, ধর্মীয় স্বাধীনতা নেই—এ বিষয়ে একটা টু শব্দ এরা এখনো করেনি, আগেও করতো না। কেন? কারণ এদেরকে কিনে রাখা হয়েছিল, যেন ‘আমরা তোমাদের ওখানে যাই করি, তোমাদের দেশ থেকে যেন কোনো প্রটেস্ট না হয়’। আজকে প্রটেস্ট হচ্ছে। আজকে বাংলাদেশের বিজিবি সীমান্তে অবৈধ কাঁটাতারের বেড়া দিলে পরে সেখানে তারা প্রটেস্ট করছে। কারণ, তারেক রহমানের সরকার এখন জাতীয়তাবাদী সরকার। এই গর্ব, অহংকার এবং বীরত্ব তারা দেখাতে পারছে।”

চীনের প্রখ্যাত এক রাজনৈতিক নেতার উক্তি তুলে ধরে রিজভী বলেন, ‘রাজনৈতিক শত্রুপক্ষকে পরাজিত করতে হলে একটি বিশাল সাংস্কৃতিক কর্মীবাহিনী গড়ে তুলতে হবে। এই বিশাল সাংস্কৃতিক কর্মীবাহিনী একটি দেশের তার সকল সত্তাকে চারিদিকে ছড়িয়ে দিতে পারে এবং জনগণকে খুব দ্রুত ঐক্যবদ্ধ করতে পারে।’