বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি না করে দুর্নীতি বন্ধ করুন, সরকারকে জামায়াত সেক্রেটারি

রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

তিনি বলেন, ‘জনগণের ওপর জুলুম-নির্যাতন করে কেউই ক্ষমতায় থাকতে পারেনি, পারবে না।’

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিক্ষোভ মিছিলে মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ
বিক্ষোভ মিছিলে মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ |সংগৃহীত

দফায়-দফায় জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, দ্রব্যমূলের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি না করে দুর্নীতি বন্ধ করুন।’

তিনি বলেন, ‘জনগণের ওপর জুলুম-নির্যাতন করে কেউই ক্ষমতায় থাকতে পারেনি, পারবে না।’

সরকারের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘সরকার গঠনের মাত্র তিন মাস যেতে না যেতেই জনগণ যেভাবে মন্ত্রীদের দেখামাত্র ভুয়া ভুয়া বলে স্লোগান দিচ্ছে এটি সরকারের জন্য ভয়ের কারণ!’

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘এ সরকার জনগণের সাথে দেয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। সরকার নির্বাচনের নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে জনগণকে চমকপ্রদ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বিএনপি নিজের ৩১ দফায় সংবিধান সংস্কারের ওয়াদা দিলেও সরকার গঠন করে সেই ওয়াদা পূরণ করেনি। বরং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে স্বীকার করেছেন তারা কেবলমাত্র নির্বাচনের জন্যেই সংস্কারের পক্ষে কথা বলেছে। তারমানে তারা সংস্কার চায় না বলেই গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছে না। কারণ সংস্কার হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ করতে পারবে না, চাঁদাবাজি করতে পারবে না, ব্যাংক দখল-লুট করতে পারবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করতে সরকার গণশুনানির আয়োজন করেছিল। সেই গণশুনানিতে অংশীজনেরা বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি না করার সুপারিশ করেছে। কিন্তু সরকার জনগণের সেই সুপারিশ ও মতামত উপেক্ষা করে আবারো প্রায় ১৭ শতাংশ দাম বৃদ্ধির পথে হাঁটছে। সরকারের শুরুই হয়েছে জনগণের গণরায় উপেক্ষা করার মধ্য দিয়ে। জনগণ গণভোটে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে গণরায় দিয়েছে। কিন্তু সরকার সেই রায় উপেক্ষা করে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করেনি এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করেনি। এজন্য জনগণ মনে করে এই সরকার গণবিরোধী সরকার।’

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেন, ‘সরকার এক মাসে দুইবার তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে। এর আগে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করেছে। দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়াচ্ছে। দ্রব্যমূল্য ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতিতে জনগণের জানমালের কোনো নিরাপত্তা নেই।’

তিনি বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকে এমন এক ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হয়েছে যিনি দুর্নীতি, অনিয়ম, লুটপাট ও ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর পদ থেকে পদত্যাগ করেছিল।’

সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরো বলেন, ‘সরকার রাষ্ট্রীয় সকল প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ করছে এবং ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসরদের পুনর্বাসন করছে। যাদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে, তারাই সুযোগ বুঝে সরকারকে ছোবল মারতে পারে।’

তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, ‘ফ্যাসিস্টের দোসরদের সাথে বন্ধুত্ব করে নিজের বিপদ টেনে আনবেন না। জামায়াতে ইসলামীর মতো জনগণের সাথে বন্ধুত্ব করতে পারলে জনগণ পাশে থাকবে।’

তাই জনগণের বিপক্ষে না গিয়ে, জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান জানাতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিসহ কৃষি, শিল্প খাতে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। এ প্রভাব সরাসরি জনগণের ওপর পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘এক মাসে দু’বার তেল ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম। তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে জনগণের পকেট কেটে সরকার অতিরিক্ত টাকা কোথায় নেবে- তা জাতি জানতে চায়।’

ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সরকারের ষড়যন্ত্রের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকের একজন গ্রাহক হিসেবে নিজের এক টাকাও আর লুট এবং পাচার করতে দেয়া হবে না। ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকেরা, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর, এস আলমের উত্তরসূরি খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্যাংকে ঢুকতে দেবে না।’

কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘প্রায় ১৬.৭ শতাংশ বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গণবিরোধী সিদ্ধান্ত।’

মাত্র তিন মাসে সরকার দু’বার বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি করায় তিনি তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘অনতিবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে।’

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপির পরিচালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা ইয়াছিন আরাফাত প্রমুখ।

সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা: ফখরুদ্দিন মানিক, মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য যথাক্রমে সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এমপি, হাফেজ রাশেদুল ইসলাম এমপি, আবদুস সালাম, ড. মোবারক হোসেন, শাহীন আহমেদ খান, মহানগরী দক্ষিণের সহকারী মিডিয়া সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমন, মহানগরী দক্ষিণের সহকারী অফিস সেক্রেটারি মুজিবুর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশ শেষে, দফায়-দফায় জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে পল্টন মোড়-বিজয়নগর প্রদক্ষিণ করে কাকরাইল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে হাজার-হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন।