মুক্তির জন্য তরুণদের জীবন দেয়ার দৃষ্টান্ত হচ্ছে জুলাই : রিজভী

১৭ বছরের অবরুদ্ধ দুঃশাসনের মধ্যে মানুষকে দিনাতিপাত করতে হয়েছে ভয়ে এবং আতঙ্কে। কখন কে ক্রসফায়ারের শিকার হয়, কখন কে মিথ্যা মামলার শিকার হয়, কখন কে গুপ্তহত্যার শিকার হয়, কখন কে গুম হয়ে যায়- এই যে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করা হয়েছিল, সেই সংস্কৃতির বিরুদ্ধে মানুষ ভেতরে ভেতরে বারুদের মতো অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল। সেটার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে।

অনলাইন প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী |ইন্টারনেট

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জুলাই আমাদের জাগরুক রাখবে। এই জুলাই যখনই আসবে, এটির যে মহিমা ও তাৎপর্য, তা স্মরণ করে সামনের নতুন প্রজন্মের কাছে জানিয়ে দেয়া- দেশের মুক্তির জন্য, দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য, মানুষের কণ্ঠের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা কত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে এবং তার জন্য শিশু, কিশোর, তরুণ ও স্কুল-কলেজের ছাত্ররা অকাতরে নিজের জীবন দান করতে পারে, সেটির দৃষ্টান্ত হচ্ছে এই জুলাই।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আলোচনা সভা শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের এ কথা বলেন তিনি।

রিজভী বলেন, ১৭ বছরের অবরুদ্ধ দুঃশাসনের মধ্যে মানুষকে দিনাতিপাত করতে হয়েছে ভয়ে এবং আতঙ্কে। কখন কে ক্রসফায়ারের শিকার হয়, কখন কে মিথ্যা মামলার শিকার হয়, কখন কে গুপ্তহত্যার শিকার হয়, কখন কে গুম হয়ে যায়- এই যে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করা হয়েছিল, সেই সংস্কৃতির বিরুদ্ধে মানুষ ভেতরে ভেতরে বারুদের মতো অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল। সেটার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে।

তিনি বলেন, ১৭ বছর মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নিরন্তর সংগ্রাম, সাহসী সংগ্রাম, আপসহীন সংগ্রাম চলেছে। এরপর ২০১৮ সাল থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে অব্যাহত সংগ্রাম, যার মধ্য দিয়ে সারাদেশে সরকার পতনের জন্য মানুষের মধ্যে যে মানসিক প্রস্তুতি ও সামগ্রিক পটভূমি তৈরি হয়েছিল, তার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে। সেই জুলাই, আমি আগেই বলেছি, তাৎপর্যমণ্ডিত। এটা আমাদের স্মরণে রাখতে হবে। এই শিশু-কিশোর ছেলেমেয়েরা যেভাবে দেশের মুক্তির জন্য, গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য সেদিন অকাতরে নিজের জীবন দিয়েছে এবং আত্মহুতির যে মহিমান্বিত রূপ দেখিয়েছে, একজন গুলিতে পড়ে যাচ্ছে তো, আরেকজন এগিয়ে আসছে তাকে পানি খাওয়ানোর জন্য। এই যে মহিমান্বিত রূপ, এটা বিশ্লেষণ করা বা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এর দৃষ্টান্ত পাওয়া খুব দুষ্কর।