জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রদলের সন্ত্রাসী হামলায় আহতদের দেখতে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে যান জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দল। নেতৃবৃন্দ আহত চিকিৎসাধীন প্রত্যেকের শারীরিক খোঁজ-খবর নেন এবং ঘটনার বিস্তারিত জানতে চান।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো: নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ড. মোবারক হোসাইন, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য শাহীন আহমেদ খান, মহানগরীর সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন, মহানগরীর সহকারী মিডিয়া সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমন।
হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন নূরুল ইসলাম বুলবুল। এসময় তিনি বলেন, ‘ইসলামী ছাত্রশিবিরের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃবৃন্দকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে। হামলার সময় আহতদের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়েছে।’
শিক্ষাঙ্গনে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইউজিসি’র চেয়ারম্যান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ এলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দুটি দাবি জানাতে গিয়েছিল। একটি দাবি ছিল, দ্বিতীয় যেই ক্যাম্পাসটি নির্মাণ হতে যাচ্ছে সেটি যাতে অস্থায়ী ভিত্তিতে হয়, তাহলে কম সময়ের মধ্যে ক্যাম্পাস হবে। এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা সেখানে দ্রুত উঠতে পারবে। দ্বিতীয় দাবি ছিল, এই নির্মাণ কাজে কোটি-কোটি টাকা দুর্নীতি হবে। এই দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে নির্মাণ কাজ যাতে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধায়নে হয়। শিক্ষার্থীদের এই দাবি ছিল যৌক্তিক দাবি। কারণ শিক্ষার্থীরা চেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দের টাকা যাতে কোনোভাবে লুটপাট করতে না পারে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধায়নে নতুন ভবন নির্মাণ হলে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি করতে পারবে না, সেজন্যই ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে।’
‘ওই হামলায় শুধু ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ আহত হয়নি বরং তারা আহত করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও জকসু’র নির্বাচিত প্রতিনিধিদেরও। এছাড়াও ঢাকা আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে।’
নূরুল ইসলাম বুলবুল আরো বলেন, ‘সরকারের ব্যর্থতা ঢাকতে রাজধানীতে এক দিনে তিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ সংকট এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে যখন মানুষ ক্ষুব্ধ তখন মানুষের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে ফেরাতে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা আজ একইসাথে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়া মাদরাসায় হামলা চালিয়েছে।’
‘ইসলামী ছাত্রশিবির ধৈর্যশীলতার পরিচয় না দিয়ে পাল্টা হামলা চালালে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করতো। কিন্তু সক্ষমতা থাকার পরও ইসলামী ছাত্রশিবির হামলার পরিবর্তে পাল্টা হামলা করেনি,’ বলেন তিনি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘যারা হামলায় রক্তাক্ত হয়েছে, আহত হয়েছে তাদের পরিবার ন্যায়বিচারের জন্য মামলা করতে পারে। এটি তাদের নাগরিক অধিকার।’
ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার করতে তিনি পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিএনপির সাথে জোটবদ্ধভাবে দীর্ঘদিন ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন করলেও বিএনপি ক্ষমতা পেয়ে নব্য ফ্যাসিবাদ হয়ে উঠতে চেষ্টা করছে। ’



