সঙ্কটের সমাধান একটিই, গণতান্ত্রিক উত্তরণ : মঈন খান

এই মুহূর্তে শুধু সরকার বা রাজনৈতিক দল নয়, গণমানুষকেও সচেতন থাকতে হবে।

অনলাইন প্রতিবেদক
আলোচনা সভায় বিএনপি নেতা মঈন খান
আলোচনা সভায় বিএনপি নেতা মঈন খান |নয়া দিগন্ত

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, আজকে যে সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে, তার সমাধান একটিই আর তা হলো গণতান্ত্রিক উত্তরণ।

আজ শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশ কর্তৃক আয়োজিত গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মঈন খান বলেন, এই মুহূর্তে শুধু সরকার বা রাজনৈতিক দল নয়, গণমানুষকেও সচেতন থাকতে হবে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ঘটনা এবং ৫ আগস্টে দেশের যে পরিবর্তন এসেছিল, এর নয় মাস পর দেশ এমন পরিস্থিতিতে এসে কিভাবে দাঁড়ালো, আমি জানতে চাই।

তিনি বলেন, কিছু ঐতিহাসিক সত্য রয়েছে, যা কখনো অস্বীকার করা যাবে না। সময়ের বিবর্তনে হয়তো তার গুরুত্ব কমে যায়। ‘৭১ এর মতো ইতিহাসকে যারা অস্বীকার করতে চায়, তাদের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করা উচিত। আজকের যে সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে, তার সমাধান একটিই, আর তা হলো গণতান্ত্রিক উত্তরণ।

বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, একটি কথা রয়েছে, তা হলো গণতন্ত্র একটি খারাপ ব্যবস্থা। কিন্তু গণতন্ত্র ছাড়া আর বাকি সব ব্যবস্থা আরো অনেক বেশি খারাপ। এ সত্যটি উপলব্ধি করেই ‘৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছে।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সঠিকভাবে প্রাকটিস করা হলে দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে পাঁচ বছর জনগণের সামনে পরীক্ষা দিতে হবে। রাজনীতিবিদদের পরীক্ষা হলো নির্বাচন, সে নির্বাচনে যদি কারচুপি হয়, তাহলে সে পরীক্ষা থেকে বাদ। বলা হয় যে অনেক নির্বাচনের মাধ্যমেও দেশ নাকি সঠিক পথে আসতে পারেনি। আমি বলতে চাই, বিগত ১৫ বছর দেশে কোনো নির্বাচনই হয়নি। দোষটা নির্বাচনের নয়, দোষটা তাদের, যারা নির্বাচনের আয়োজন করেছিলেন।

মঈন খান বলেন, বিশ্বের কোনো সংবিধানে কিন্তু খারাপ কথা লেখা থাকে না। দেশে ‘৭২ সালের পর ’৭৫ সালে একট সংবিধান এসেছিল। সে সময় সংবিধানে একটি সেকশন যুক্ত করা হয়েছিল, যার ফলাফল ছিল বাকশাল। পরে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সেসব ছুঁড়ে ফেলা দেয়া হয়েছে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নূরুল হক নূর, সংগঠনের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মাসুম প্রমুখ।