গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে বিএনপির অবস্থান পুনর্বিবেচনার আহ্বান এনসিপির

আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ চাই, যেখানে চাকরি হবে মেধার ভিত্তিতে, কোনো দলীয় প্রভাব থাকবে না।

অনলাইন প্রতিবেদক
কথা বলছেন এনসিপি’র সদস্য সচিব আখতার হোসেন
কথা বলছেন এনসিপি’র সদস্য সচিব আখতার হোসেন |নয়া দিগন্ত

বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি’র (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশন নিয়োগ করার ক্ষেত্রে একটা সিলেকশন কমিটির ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন এবং সেটাকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন। ঠিক, একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাকি যে সংবিধিবদ্ধ এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো আছে সেখানেও আপনারা আপনাদের দলীয় অবস্থান পুনর্বিচনা করবেন।’

সোমবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সাথে আলোচনা শেষে তিনি এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, বিগত পাঁচ দশকে যে দলই ক্ষমতায় এসেছে, তারা নিজেদের মতো করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ দিয়েছে, এ কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণের শিকার হয়েছে এবং জনবান্ধবতা হারিয়েছে।

আখতার হোসেন বলেন, ‘আমরা যদি নিয়োগ প্রক্রিয়া দলীয় বিবেচনার বাইরে এনে একটি নিরপেক্ষ, সকল পক্ষের প্রতিনিধিত্বে গঠিত সিলেকশন কমিটির মাধ্যমে পরিচালনা করতে পারি, তাহলে দেশের সামগ্রিক অগ্রগতি নিশ্চিত হবে।’

সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত পিএসসি ও দুদকে নিয়োগ প্রধানমন্ত্রী তথা নির্বাহী বিভাগের পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি দিয়ে থাকেন। ফলে দুর্নীতি দমন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না বরং বিরোধী দলের ওপর চাপ সৃষ্টির হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে দুদক।

তিনি বলেন, ‘পিএসসি ও দুদকের নিয়োগ যদি একটি নিরপেক্ষ সিলেকশন কমিটির মাধ্যমে হয় এবং সেটি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তাহলে সেটির স্থায়িত্ব ও নিরপেক্ষতা উভয়ই রক্ষা পাবে। সংবিধান পরিবর্তন যতটা কঠিন, আইন পরিবর্তন তার তুলনায় সহজ। দুদকে সাংবিধানিক অন্তর্ভুক্তি নিরাপদ।

এনসিপি এই নেতা বলেন, ‘বিগত বছর কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় প্রশ্নফাঁস এবং ভাইভায় দলীয় বিবেচনার মতো ঘটনাগুলো জনগণের আস্থায় চরম ধাক্কা দিয়েছে। আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ চাই, যেখানে চাকরি হবে মেধার ভিত্তিতে, কোনো দলীয় প্রভাব থাকবে না।’

আখতার হোসেন বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে যে জনচেতনা তৈরি হয়েছে, তা দলীয় নিয়ন্ত্রণমুক্ত একটি রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষেই কথা বলছে। আমরা আর দলীয়করণের কোনো প্রতিষ্ঠান দেখতে চাই না। আমরা চাই, রাষ্ট্রীয়, সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে-জনস্বার্থে কাজ করুক।