গণতান্ত্রিক সংস্কারের মধ্য দিয়ে একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ বিনির্মাণ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন, ‘কেউ যদি বিভিন্ন বাহানায় অনন্তকাল ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে।’
শনিবার (৫ জুলাই) কেরানীগঞ্জ উপজেলা দক্ষিণ বিএনপি শাখা আয়োজিত ‘যথাসময়ে সংস্কার ও দ্রুত সময়ে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে’ এক সমাবেশে তিনি একথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা যে অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছি, মনে হচ্ছে বাংলাদেশে আমরা সবাই সুখের দিনে দাঁড়িয়ে আছি। দুঃখের দিনের কথা আমরা ভুলে গিয়েছি, আমরা ভুলে গিয়েছি আয়নাঘরের কথা, আমরা ভুলে গিয়েছি আওয়ামী লীগের নির্যাতন-নিপীড়ন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসন, অত্যাচারের কথা। আমরা এখন পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়ছি। গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর মধ্যে বিভিন্নভাবে বিভক্তি সৃষ্টি করার প্রয়াস চলছে। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস ভুলিয়ে দেয়ার একটা চর্চা চলছে, এটি আরেকটি ষড়যন্ত্র।’
অন্তর্বর্তী সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘যদি স্বপ্ন দেখে থাকেন বিনা ভোটে, বিভিন্ন বাহানায়, সংস্কার-বিচারের বাহানা দিয়ে আপনারা অনন্তকালের জন্য ক্ষমতায় থেকে যাবেন, সেটা দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দেখতে পাই, বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচনের পক্ষে কথা বললে একটি পক্ষ নির্বাচন ছাড়াই ক্ষমতায় থাকার প্রয়াস করে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায়। আজকাল কথা বলার স্বাধীনতা এস্টাবলিশ হয়েছে। আমরা ব্যক্তির বাক-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেছি। প্রেস অব ফ্রিডম প্রতিষ্ঠিত করেছি। যে যার মতো করে কথা বলছি, জবাবদিহিতা নাই। আমরা কি বলতে চাচ্ছি, তাতে দেশের কি ক্ষতি হচ্ছে? উপকার হচ্ছে, গণতন্ত্রের পক্ষে যাচ্ছে কিনা সেটা আমরা বাছ-বিচার করছি না। আমরা পরস্পরের মধ্যে লড়াই শুরু করেছি। এটা কোনোভাবেই ভালো লক্ষণ নয়।’
তিনি বলেন, ‘যখন সংস্কারের কথা বলছি, যখন বিচারের কথা বলছি, অনেকে বলছে আমরা সংস্কার চাই না। আমরা বিচার বিলম্বিত করতে চাই। আমরা নাকি শুধু নির্বাচন নির্বাচন করছি। এই কথাগুলো কারা বলছে? যারা নির্বাচনে এলে যাদের জামানত না থাকার কথা, তারা বলছে। এই কথাগুলো যারা বলছে, তারা হলো আনুপাতিক হারে নির্বাচনের কথা যারা বলছে, তারাই এই সমস্ত বয়ান দিচ্ছে। তারা বয়ান দিচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ আনুপাতিক নির্বাচন চায়।’
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় এ নেতা বলেন, ‘আনুপাতিক নির্বাচন কি জিনিস আপনারা কেউ জানেন? নেতাকর্মীরা উত্তর দেয়- না না। আপনারা অনুপাত অনুসারে কোনোদিন ভোট দিয়েছেন? উত্তর- না না।’ তিনি বলেন, ‘অনুপাতের নির্বাচন পৃথিবীর কয়েকটি দেশে আছে। কোথাও পরীক্ষামূলকভাবে আছে। সেই অনুপাতগুলো হলো- ১০০টা দল যদি দাঁড়ায় এক, দুই, তিন, চার করে ১০০ নম্বর পর্যন্ত দিতে হবে। আপনি কাকে আগে চান, কাকে পেতে চান, কাকে দিতে চান?’
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে এখন রেজিস্ট্রেশন যা হচ্ছে, পলিটিক্যাল পার্টি ১০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। নিবন্ধিত এখন ৫০টি ছাড়িয়ে গেছে। গণতন্ত্র বলে কথা। এতগুলো রাজনৈতিক দল। সবাই এখন রেজিস্ট্রেশন পাওয়ার জন্য পাগল হয়ে গেছে। একটি নতুন দল, ছাত্রদের দল যাদের আমরা সফলতা কামনা করি, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য আমরা পরামর্শ দিচ্ছি, তারা দাবি করছে- মৌলিক সংস্কার না হলে, বিচার না হলে, তারা নির্বাচন করবে না। তারা বলছে, এই নির্বাচন কমিশন থাকলে নির্বাচন করবে না। তারা বলছে পরিস্থিতি ঠিক না হলে নির্বাচন করবে না।’
ওই দলের প্রতি (এনসিপি) প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন করার জন্য আমাদের কি কি করতে হবে? পরামর্শ দিলেই হয়। শুধু করবা না, করবা না, বললে কি হবে? কিভাবে করবে? করবে বললে আমরা না পরামর্শ দেব। প্রথম থেকেই তাদের ধারণা হয়েছে ৫ আগস্টের ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের মালিক তারা। এই আইডিয়া তো শেখ মুজিবের আইডিয়া, শেখ হাসিনা পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পুরোটাই, ওরা হচ্ছে কন্ডাক্টর, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করতে করতে আওয়ামী লীগ শেষ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের মতো করেই তাদেরকে বাংলার মানুষ বের করে দিয়েছে। এই চেতনা বিক্রি করবেন না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এখন পরস্পরের বিরুদ্ধে লেগে আছি, নির্বাচন করবে, করবে না, করবে, করবে না, এর মধ্যে আছি। আর কয়েকটি দল শুরু করেছেন সংসদের উচ্চ কক্ষ ও নিম্ন কক্ষেও আনুপাতিক চাই। আনুপাতিক ছাড়া নাকি বাংলাদেশে নির্বাচন হবে না। যারা এই কথা বলছে তারা একটা চরের দল। যারা ১৬ বছর আওয়ামী লীগের সাথে ছিল, আওয়ামী লীগের সমস্ত নির্বাচনকে দেয়ার জন্য হাত পাখা দিয়ে বাতাস করেছে। তারা বলছে, বাংলাদেশের নির্বাচন নাকি হতে আনুপাতিক পদ্ধতিতে। জিন্দেগীতে কোনো নির্বাচনে তারা কখনো একটি আসনও পায় নাই, একটা মেম্বার-চেয়ারম্যানও হইতে পারে নাই।’



