বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘জনগণের ভোটের অধিকার জনগণকেই পাহারা দিয়ে রক্ষা করতে হবে। হাজার হাজার মানুষের এই উপস্থিতিই প্রমাণ করে, জনগণের শক্তি কতটা অপ্রতিরোধ্য।’
রোববার (২৫ জানুয়ারি) গভীর রাতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে কাঁচপুর বালুর মাঠে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘আপনারা আজ রাত ২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে এখানে এসেছেন। এই যে জনস্রোত, এই শক্তি ভোটের দিন কাজে লাগাতে হবে। ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটের বাক্স পাহারা দিতে হবে। জনগণ একদিন কষ্ট করলে বিএনপি আগামী পাঁচ বছরে দেশের জন্য যে পরিকল্পনা করেছে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।’
বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকার ডামি ও নিশিরাতের নির্বাচন করে জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে জনগণের মধ্যে বিএনপিকে ভোট দেয়ার যে প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে, তাতে একটি দলের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে। তাই তারা নির্বাচন নিয়ে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।’
নির্বাচনের দিন করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে ফজরের নামাজ শেষে সবাই ভোটকেন্দ্রে যাবেন। মুসলমানদের পাশাপাশি অন্য ধর্মের ভাই-বোনেরাও কেন্দ্রে যাবেন। লাইন ধরে ভোট দিয়ে সারাদিন ভোটকেন্দ্র পাহারা দেবেন। বাংলাদেশই আমাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা। এই দেশ ছাড়া আমাদের আর কোনো ঠিকানা নেই। যেমন করে আমরা নিজের ঘর সাজাই, তেমনি বাংলাদেশকেও সাজাতে হবে। এই দেশ একটি ঘর, আর দেশের মানুষ একটি পরিবার।’
নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গত ১৭ বছরে দখল, লুটপাট, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসে সাধারণ মানুষ চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছে।’ তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও নির্যাতন যে দলেরই হোক, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।’ নারায়ণগঞ্জে প্রায় ২০টি স্থানে মাদক ব্যবসা চলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
আগামী দিনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘অসহায় ও দরিদ্রদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। শিক্ষিত যুবকদের জন্য প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড ও ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় ব্যবসায়ীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। দেশের মানুষ ও মা-বোনেরা যেন নিরাপদে রাস্তায় চলাচল করতে পারেন, সেই পরিবেশ আমরা গড়ে তুলবো।’
এর আগে চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা ও দাউদকান্দির বিভিন্ন নির্বাচনী পথসভা শেষে রাত ১টা ৫৪ মিনিটে তারেক রহমানকে বহনকারী বাস নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর বালুর মাঠে পৌঁছায়। সেখানে বিএনপি নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনগণ ব্যানার, ফেস্টুন ও জাতীয় পতাকা নেড়ে তাকে স্বাগত জানান। রাত ২টায় মঞ্চে উঠে হাত নেড়ে জনতার শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন তিনি। দেরিতে পৌঁছানোর জন্য স্থানীয় জনতার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে তারেক রহমান বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে আসার পথে বিভিন্ন স্থানে হাজারো মানুষের সাথে কথা বলতে গিয়ে সময় লেগেছে।’
জনসভায় তিনি নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের বিএনপি প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের নির্বাচিত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘এই পাঁচজনকে আপনাদের জিম্মায় দিয়ে গেলাম। নির্বাচিত করে উন্নয়নের জন্য তাদের জবাবদিহির মধ্যে রাখবেন।’
সভায় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক মামুন মাহমুদের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা বক্তব্য রাখেন।



