বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, ‘জেলা পর্যায়ে আদালত আছে, এটা সম্প্রসারণ করার ব্যাপারে ঐকমত্য কমিশনের সাথে সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে। উপজেলা পর্যায়েও পর্যায়ক্রমে অধস্তন আদালত চালু করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘৪৯৫টি উপজেলা, তার মধ্যে ডিস্ট্রিক্ট হেডকোয়ার্টারে বা সদর উপজেলায় প্রয়োজন নেই। কারণ এখানে মূল স্পিরিটটাই হলো বিচার প্রার্থীর কষ্ট দূর করা।’
সোমবার (৭ জুলাই) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের’ সাথে আলোচনা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
হামিদুর রহমান আযাদ আরো বলেন, ‘কিছু কিছু উপজেলায় আবার চৌকি স্থাপন করা আছে, চৌকিগুলোকে স্থায়ী রূপ দেয়া হবে। অবকাঠামোগত সমস্যা আছে, লজিস্টিক সমস্যা আছে, আর্থিক বরাদ্দ সব মিলিয়ে কিছু ফ্যাসিলিটি বাড়ানো।’
তিনি বলেন, ‘অধস্তন আদালত উপজেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। রাষ্ট্রের তিন অঙ্গের মধ্যে অন্যতম হলো বিচার বিভাগ। বিচার বিভাগের কয়েকটা স্তর আছে উচ্চ, নিম্ন ও অধস্তন।’
‘অধস্তন আদালত বাংলাদেশে এক সময় চালু করা হয়েছিল, সেখান থেকে ব্যাক করা হয়েছে। হাইকোর্ট বেঞ্চও বিভাগীয় পর্যায়ে ছিল, তা আবার ব্যাক করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘অধস্তন আদালত জেলা থেকে উপজেলা পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একমত। ৫ আগস্টের জনআকাঙ্ক্ষা মোতাবেক এ চাওয়া। আমরা বিচার ব্যবস্থাকে জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে চাই। কারণ একজন বিচার প্রত্যাশীর উপজেলা থেকে জেলায় যেতে অর্থ, সময় বেশি খরচ হয়। আমরা বলেছি, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, দুর্ভোগ থেকে মুক্তি এবং বিচার সহজীকরণ ও মামলার চাপ কমানোর জন্য আমরা এটাকে সমর্থন করেছি। আমরা প্রস্তাব দিয়েছি, পর্যায়ক্রমে উপজেলা পর্যায়ে বিচার আদালত নিয়ে যাওয়া হয়। এবং উপজেলার চৌকি আদালতকে যেন স্থায়ী আদালতে পরিণত করা হয়। জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়িত করতে হবে, সুনিশ্চিত বিচার ব্যবস্থা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে।’
‘গ্রাম্য আদালত বিষয়ে কথা হয়েছে, সেখানে অবকাঠামো ও লজিস্টিক সাপোর্ট বাড়াতে হবে এবং দক্ষ করে তোলার কথা উঠে এসেছে’ বলে জানান জামায়াতের এই নেতা।
জরুরি অবস্থা ঘোষণা সম্পর্কিত বিধান সম্পর্কে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘বিদ্যমান সংবিধানে স্পষ্ট বলা আছে আর্টিকেল ১৪১-এর ক, খ, গ তিনটা জিনিস প্রস্তাবে আনা হয়েছে। প্রথম কথা হচ্ছে কোন কোন ক্ষেত্রে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা যাবে। এ বিষয়ে সবাই প্রায় একমত, দ্বিমত নাই। নীতিগতভাবে এই বিধানটা রাখা এবং সেই ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক গোলযোগ এবং মহামারী, যুদ্ধ, বহিরাক্রমণ এই জিনিসগুলোর ব্যাপারেও সবাই এই স্পিরিটের সাথে একমত।’



