ব্যথাতুর আঁখি, কাঁদো-কাঁদো মুখে দাদিকে স্মরণ করলেন জাইমা

‘দাদির জানাজায় জনসমুদ্র শব্দটিও যেন বিশালতার কাছে হার মেনেছে। কেননা যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই কেবল চোখে পড়েছে মানুষ। শোনা গেছে, লাখো কণ্ঠের কান্নাজড়িত দোয়া।’–এমন জ্বলজ্বল দৃশ্য স্মৃতিতে এনে জাইমা রহমান দাদিকে জানিয়ে দেন, হে শেষযাত্রার পথিক, দূরের পথিক! তুমি একা নও, তোমার পাশে আছে পুরো বাংলাদেশ।

দ্বীন মোহাম্মাদ দুখু
বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও জাইমা রহমানের কাটানো মুহূর্ত
বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও জাইমা রহমানের কাটানো মুহূর্ত |জাইমা রহমানের ফেসবুক থেকে

চিরবিদায় নেয়া বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে তার স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পাশে করা হয়েছে সমাহিত। প্রিয় বিয়োগের সেই দগদগে ঘা এখনো টনটন করছে। শোকে মুহ্যমান হৃদে, ব্যথাতুর আঁখি আর কাঁদো-কাঁদো মুখে তারেককন্যা জাইমা রহমান দাদিকে খুঁজে ফেরেন অশ্রু-শিশিরে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) এক ফেসবুক পোস্টে কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদায়-বেলা’ কবিতায় জাইমা রহমান ছল-ছল চোখে কেঁদে ওঠেন।

জাইমা রহমানের শোকার্ত মন দাদিকে ‘বিদায়’ না নেয়ার আকুতি জানিয়ে বলে ওঠে–

তুমি অমন ক’রে গো বারে বারে জল-ছল-ছল চোখে চেয়ো না,

জল-ছল-ছল চোখে চেয়ো না।

ঐ কাতর কণ্ঠে থেকে থেকে শুধু বিদায়ের গান গেয়ো না,

শুধু বিদায়ের গান গেয়ো না।। [কাজী নজরুল ইসলাম]

আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়াকে বিদায়-বেলা অশ্রুসিক্ত না হওয়ার অনুনয় জানিয়ে জাইমা রহমানের ব্যথাতুর হৃদয় বলে ওঠে–

হাসি দিয়ে যদি লুকালে তোমার সারা জীবনের বেদনা,

আজো তবে শুধু হেসে যাও, আজ বিদায়ের দিনে কেঁদো না।

ঐ ব্যথাতুর আঁখি কাঁদো-কাঁদো মুখ

দেখি আর শুধু হেসে যাও, আজ বিদায়ের দিনে কেঁদো না।

চলার তোমার বাকী পথটুকু-

পথিক! ওগো সুদূর পথের পথিক-

হায়, অমন ক’রে ও অকর”ণ গীতে আঁখির সলিলে ছেয়ো না,

ওগো আঁখির সলিলে ছেয়ো না।। [কাজী নজরুল ইসলাম]

‘দাদির জানাজায় জনসমুদ্র শব্দটিও যেন বিশালতার কাছে হার মেনেছে। কেননা যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই কেবল চোখে পড়েছে মানুষ। শোনা গেছে, লাখো কণ্ঠের কান্নাজড়িত দোয়া।’–এমন জ্বলজ্বল দৃশ্য স্মৃতিতে এনে জাইমা রহমান দাদিকে জানিয়ে দেন, হে শেষযাত্রার পথিক, দূরের পথিক! তুমি একা নও, তোমার পাশে আছে পুরো বাংলাদেশ।

কাঁদো-কাঁদো মুখে তার তার অন্তর থেকে ধ্বনিত হয়–

দূরের পথিক! তুমি ভাব বুঝি

তব ব্যথা কেউ বোঝে না,

তোমার ব্যথার তুমিই দরদী একাকী,

পথে ফেরে যারা পথ-হারা,

কোন গৃহবাসী তারে খোঁজে না,

বুকে ক্ষত হ’য়ে জাগে আজো সেই ব্যথা-লেখা কি?

দূর বাউলের গানে ব্যথা হানে বুঝি শুধু ধূ-ধূ মাঠে পথিকে?

এ যে মিছে অভিমান পরবাসী! দেখে ঘর-বাসীদের ক্ষতিকে!

তবে জান কি তোমার বিদায়-কথায়

কত বুক-ভাঙা গোপন ব্যথায়

আজ কতগুলি প্রাণ কাঁদিছে কোথায়-

পথিক! ওগো অভিমানী দূর পথিক!

কেহ ভালোবাসিল না ভেবে যেন আজো

মিছে ব্যথা পেয়ে যেয়ো না,

ওগো যাবে যাও, তুমি বুকে ব্যথা নিয়ে যেয়ো না। [কাজী নজরুল ইসলাম]

উল্লেখ্য, বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বুধবার বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে তার স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পাশে সমাহিত করা হয়। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজার পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার দাফন সম্পন্ন হয়।

এর আগে, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের তত্ত্বাবধানে খালেদা জিয়াকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এরও আগে, ৩০ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন খালেদা জিয়া। কিডনি, হৃদরোগ এবং নতুন করে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় এক মাস যাবৎ তিনি ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।