জামায়াত আমির

বুক পেতে দিয়ে ছাত্রদের আদায় করা স্বাধীনতা-অধিকার বৃথা যেতে দেয়া যাবে না

রাজধানীতে ছাত্রশিবিরের ১৪তম ইয়ুথ সামিট অনুষ্ঠিত

এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত সারাদেশের দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও মানবিক বিভাগের বাছাইকৃত মেধাবী শিক্ষার্থীরা এ সামিটে অংশ নেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সামিটে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমান
সামিটে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমান |নয়া দিগন্ত

‘অ্যাওয়েইকেন ইউরসেলফ : হারমোনাইজ স্পিরিচুয়ালিটি উইথ স্কিলস টু লিড দি ওয়ার্ল্ড’— প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ১৪তম ইয়ুথ সামিট-২০২৬ সম্পন্ন হয়েছে।

এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, নিজের বুক পেতে দিয়ে এদেশের ছাত্ররা যে স্বাধীনতা ও অধিকার আদায় করেছে তা বৃথা যেতে দেয়া যাবে না।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর ঢাকা কলেজের শহীদ আ ন ম নজিবউদ্দিন খান খুররম অডিটোরিয়ামে দিনব্যাপী এই সামিট অনুষ্ঠিত হয়।

এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত সারাদেশের দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও মানবিক বিভাগের বাছাইকৃত মেধাবী শিক্ষার্থীরা এ সামিটে অংশ নেন।

সকাল সাড়ে ৭টায় পবিত্র দারসুল কোরআনের মধ্য দিয়ে সামিটের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। অনুষ্ঠানে সূরা কাহফের ৪৭-৪৯ নম্বর আয়াতের ওপর জ্ঞানগর্ভ দারস পেশ করেন বিশিষ্ট ইসলামী স্কলার মাওলানা ড. আবুল কালাম আজাদ বাশার।

এরপর স্বাগত ও উদ্বোধনী বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ। তিনি তার বক্তব্যে একবিংশ শতাব্দীর বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মেধার পাশাপাশি নৈতিকতা ও দক্ষতার সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধান অতিথি ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘আগামী দিনের বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে তরুণদের শুধু একাডেমিক শিক্ষায় সেরা হলেই চলবে না, বরং আধ্যাত্মিক শক্তি ও আধুনিক স্কিল বা দক্ষতায় বলীয়ান হতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে হলে আগে নিজেদের পরিশুদ্ধ করতে হবে।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, “নীতিহীন মেধাবীরাই সমাজের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। তাই দেশ থেকে দুর্নীতি দূর করতে হলে সর্বপ্রথম ‘সরিষার ভেতরের ভূত’ তাড়াতে হবে।”

শহীদ আবু সাঈদের বীরত্বের কথা স্মরণ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘বুক পেতে দিয়ে ছাত্ররা যে স্বাধীনতা ও অধিকার আদায় করেছে, তা কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেয়া যাবে না।’

শহীদদের এই রক্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সুন্দর ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ে তোলার তাগিদ দেন তিনি।

কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, ‘আগামী দিনের রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি স্তরে আজকের এই তরুণরাই নেতৃত্ব দেবে। তাই নিজেদের প্রস্তুত করতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার প্রতি শতভাগ মনোযোগী হতে হবে।’ পশ্চিমা সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও নৈতিক অবক্ষয় থেকে তরুণদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি বলেন, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহারে শিক্ষার্থীদের অত্যন্ত দায়িত্বশীল হতে হবে। এগুলোকে নিছক সময় নষ্ট বা কুপ্রবৃত্তির তাড়নায় ব্যবহার না করে জ্ঞান অর্জন ও চরিত্র গঠনের হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগানোর ওপর তিনি জোর দেন।

সমাপনী পর্বে শিক্ষার্থীদের সরাসরি বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং গুরুত্বপূর্ণ নসিহত দেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদানকালে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেন, ‘ক্যারিয়ার সেশন বা স্কিল ডেভেলপমেন্ট যাই হোক না কেন, চূড়ান্ত পর্যায়ে নৈতিকতার ভিত্তি শক্ত না হলে সেই সফলতা টেকসই হয় না। তোমাদের মেধা ও শ্রমকে দেশের সেবায় যথাযথভাবে বিনিয়োগ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে হলে আমাদের তরুণদের মেধার সাথে নৈতিকতার এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটাতে হবে। শুধুমাত্র পুঁথিগত বিদ্যা নয়, বরং উন্নত চরিত্রের মাধ্যমে তোমাদেরকে আগামী দিনের দেশ পরিচালনায় যোগ্য হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।’

দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ‘বর্তমান বিশ্ব অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক, যেখানে টিকে থাকতে হলে দক্ষতা ও যোগ্যতার কোনো বিকল্প নেই। তোমাদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিতে নিজেদের পারদর্শী করে তুলতে হবে।’

দিনব্যাপী এই আয়োজনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যারিয়ার সেশন, একাডেমিক সেশন, প্যানেল আলোচনা, স্কিল ডেভেলপমেন্ট, সময় ব্যবস্থাপনা, একবিংশ শতাব্দীর কাঙ্ক্ষিত নেতৃত্ব তৈরি এবং উম্মাহর উন্নয়নে বুদ্ধিবৃত্তিক বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক সেশন পরিচালিত হয়।

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক হাফেজ ইউসুফ ইসলাহীর সঞ্চালনায় সামিটে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা: মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, এমপি, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মোহাম্মদ মনির এবং ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস। এছাড়াও দেশের বিশিষ্ট শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারিয়েট সদস্য ও ঢাকাস্থ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃবৃন্দ এতে উপস্থিত ছিলেন।