জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত-৪৪ আসনের সদস্য (এমপি) মারদিয়া মমতাজ বলেছেন, ‘কোনো জনপ্রতিনিধি যদি নাগরিকের প্রাপ্য অধিকার পৌঁছে না দেয়, তবে জনগণকেই সেই অধিকার আদায় করে নিতে হবে।’
সোমবার (২৫ মে) দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টন কলেজ মিলনায়তনে ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে দরিদ্র ও দুঃস্থদের মাঝে মানবিক সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যের নামে বরাদ্দ করা নগদ টাকা বিতরণ উপলক্ষে পল্টন এলাকা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এমপি মারদিয়া মমতাজ বলেন, ‘জনপ্রতিনিধির কাজ হচ্ছে রাষ্ট্রীয় অধিকার নাগরিকদের কাছে পৌঁছে দেয়া। জামায়াত বিশ্বাস করে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব জামায়াতে ইসলামীর রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতা নয়, জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় দায়িত্ব পালন করতে চায়। জামায়াতে কোনো দুর্নীতি ও অনিয়মের দাগ নেই। দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্বের হাত ধরেই আগামীর বাংলাদেশ হবে একটি কল্যাণ ও মানবিক বাংলাদেশ।’
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতে নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা শরিফুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগরী দক্ষিণের সমাজকল্যাণ সম্পাদক শাহীন আহমেদ খান, মতিঝিল দক্ষিণ থানা আমির মাওলানা মোতাছিম বিল্লাহ, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদপ্রার্থী সালেহা মমতাজ ও দিলারা বেগম, শাহজাহানপুর থানা মহিলা সেক্রেটারি পারভীন আক্তারসহ স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে ড. হেলাল বলেন, ‘জুলাইয়ের চেতনা পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন না হলে জনগণের অধিকার ফিরে আসবে না। জুলাইয়ের চেতনা হচ্ছে ইনসাফ ও ন্যায় বিচারের বাংলাদেশ। যেই বাংলাদেশে কোনো বৈষম্য থাকবে না। থাকবে না কোনো রক্তপাত। ফিরবে না ফ্যাসিবাদ।’
তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের বিষয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে হলেও সরকার জাতীয় নির্বাচন মেনে ক্ষমতায় বসেছে তবে গণভোট মেনে নিচ্ছে না। কারণ সরকার আবারো ফ্যাসিবাদের পথে চলতে চায়। কিন্তু, ছাত্র-জনতা ফ্যাসিবাদ কায়েম হতে দেবে না। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতেই হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী একটি কল্যাণ ও মানবিক রাষ্ট্র গঠন করতে চায়। যেখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না। নাগরিক তার রাষ্ট্রীয় অধিকারের নিশ্চয়তা পাবে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশ কল্যাণ রাষ্ট্র হবে। কল্যাণ রাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য ঈদ উপহারের বরাদ্দ আরো বেশি হবে এবং প্রত্যেক নাগরিক তা প্রাপ্য হবেন।’



