নূরুল ইসলাম বুলবুল

জুলাই যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে বিষেদাগার করছে একটি রাজনৈতিক দল

গণভোটে জনগণ যদি পিআর না চায়, জামায়াতে ইসলামীও চাইবে না। কিন্তু জনগণ যদি চায়, তাহলে পিআর দিতেই হবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
নূরুল ইসলাম বুলবুল
নূরুল ইসলাম বুলবুল

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো: নূরুল ইসলাম বুলবুল অভিযোগ করেছেন, ‘একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা জুলাই যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে বিষেদাগার করছে, তাদের অসম্মান ও কটাক্ষ করে বক্তব্য দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান না হলে তারা রাজপথ তো দূরের কথা, মিডিয়ার সামনেও আসতে পারতো না। যারা নিজেদের নেত্রীর বাসভবনের সামনে থেকে একটি বালুর ট্রাক সরাতে পারেনি, তারা দাবি করছে গণঅভ্যুত্থান ছাড়া তারা ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করতো, এটি জনগণের কাছে হাস্যকর।’

রোববার (২৪ আগস্ট) রাতে রাজধানীর ওয়ারী পূর্ব (৩৯ নম্বর ওয়ার্ড) থানায় আয়োজিত সূধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার বলছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার। অথচ একটি দল একবার বলে তারা ক্ষমতায় গিয়ে সব সংস্কার মুছে দেবে, আবার বলে তারা সংস্কার করবে। যারা গণঅভ্যুত্থানকে অস্বীকার করে, তারা কোনোভাবেই জুলাই সনদের স্বীকৃতি দিতে পারে না। তারা চায় যেন তেন একটি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে নব্য ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের ৭১ শতাংশ জনগণ পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতিতে নির্বাচন চায়। অথচ একটি দলের নেতারা বলছেন, ‘পিআর খায় নাকি মাথায় দেয়।’ এটি রাজনৈতিক শিক্ষার ভয়াবহ অভাবের পরিচয়। যারা এখনো পিআর বুঝে না, তাদের রাজনীতি বিষয়ে আরো পড়াশোনা করা উচিত।’

পিআর পদ্ধতি নিয়ে গণভোট আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গণভোটে জনগণ যদি পিআর না চায়, জামায়াতে ইসলামীও চাইবে না। কিন্তু জনগণ যদি চায়, তাহলে পিআর দিতেই হবে।’

জামায়াতে ইসলামী ‘ক্রেডিট নেওয়ার রাজনীতি’ করে না দাবি করে তিনি বলেন, ‘গত বছরের ১ জুলাই থেকে ছাত্ররা যখন আন্দোলন শুরু করেছে, জামায়াতে ইসলামী তখন থেকেই তাদের পাশে ছিল। আমাদের সেক্রেটারি জেনারেল সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানিয়েছে। অথচ একটি বড় দলের মহাসচিব আন্দোলন চলাকালীন বলেছেন, এই আন্দোলনে তাদের কেউ জড়িত নয়। পরে তারা দাবি করেছে, আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড তাদের নেতা।’

তিনি বলেন, ‘আমরা গণঅভ্যুত্থানে শহীদ কিংবা আহতদের আলাদা করে দেখি না। তারা সকলেই জাতীয় সম্পদ, জাতীয় বীর। ৫ আগস্ট পরবর্তী তিন দিন সরকারবিহীন রাষ্ট্রে জনগণের নিরাপত্তায় জামায়াতে ইসলামী নিয়োজিত ছিল। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয় ও বাড়ি-ঘর পাহারা দিয়েছে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা ও দেশের হাজারো আলেম-উলামা।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘ঢাকা-৬ আসনে কোনো চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী বা মাদক কারবারির হাতে জনগণের নেতৃত্ব যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘এই এলাকাকে একটি সুখী, সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও ন্যায়বিচারভিত্তিক নগরীতে রূপান্তর করতে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।’

তিনি আরো বলেন, ‘ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থায় প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসার জায়গা নেই, এটিই তার সৌন্দর্য। ভোট দিতে হবে সৎ, যোগ্য, আল্লাহভীরু, নৈতিক ব্যক্তি ও দলকে। শুধু ভোট দিলেই হবে না, ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত ভোট বাক্স পাহারা দিতে হবে।’

ওয়ারী পূর্ব থানা আমির মোতাছিম বিল্লাহর সভাপতিত্বে এবং থানা অফিস সেক্রেটারি মো: আব্দুল হান্নানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন মহানগরীর অফিস সেক্রেটারি ও ঢাকা-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিচালক কামরুল আহসান হাসান, ওয়ারী দক্ষিণ থানা আমির মাহফুজুল হক, ওয়ারী পূর্ব থানা সেক্রেটারি আব্দুল মুকিত রব্বানী।

শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন শহীদ রফিকুল ইসলামের ছেলে আবু রায়হান, শহীদ জুনায়েদের বাবা জামাল হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

এছাড়া সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন থানা বায়তুলমাল সম্পাদক অধ্যাপক একে এম মুছা, বীর মুক্তিযোদ্ধা দীন মোহাম্মদসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। বিজ্ঞপ্তি