তারেক রহমানের অভিযোগ

সরকারের সহায়তায় দেশে উদ্দেশ্যমূলক পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে কেউ কেউ

‘গণতন্ত্রে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দলগুলো আপনাদের (অন্তর্বর্তী সরকার) পাশে থাকবে যদি আপনাদের ভূমিকা আরো স্বচ্ছ এবং সাহসী হয়।’

অনলাইন প্রতিবেদক
রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ মিলনায়তনে এক স্মরণসভায় তারেক রহমান
রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ মিলনায়তনে এক স্মরণসভায় তারেক রহমান |নয়া দিগন্ত

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে সংঘটিত কিছু নৃশংস ঘটনা জনমনে অন্তর্বর্তী সরকারের সক্ষমতাকে ক্ষেত্র বিশেষে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো একটি অংশের সহায়তায় কেউ কেউ দেশে উদ্দেশ্যমূলক পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে কিনা-এই বিষয়েও জনমনে জিজ্ঞাসা রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে আদৌ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব কিনা-কোনো কোনো মহল থেকে এমন ধরনের প্রশ্ন উপস্থাপন বোধ হয় আর বিচ্ছিন্ন বক্তব্য হিসেবে দেখার সুযোগ নাই।’

শনিবার (১৯ জুলাই) রাজধানীর ফার্মগেট-সংলগ্ন খামারবাড়ি কৃষিবিদ মিলনায়তনে এক স্মরণসভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অবদান ও শহীদদের স্মরণে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এ সভার আয়োজন করে।

তারেক রহমান বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিশ্রুতিগুলো কেউ সময়ক্ষেপণ করতে চাইছে কিনা-এ ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখতে গণতন্ত্রকামী সবার প্রতি আহ্বান জানাই। রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত না হলে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন সম্ভব কিনা, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।’

তিনি বলেন, ‘জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে গেলে দেশে এমন একটি নির্বাচনী ব্যবস্থা থাকা জরুরি যেখানে প্রতিটি ভোটার নির্ভয়ে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে। দেশে জনগণের ক্ষমতায়ণ নিশ্চিত করা না গেলে আমাদের কোনো আয়োজনই কিন্তু কাজে আসবে না, টেকসই হবে না।’

এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অন্তর্বর্তী সরকারকে আরো স্বচ্ছ ও সাহসী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্রে বিশ্বাসী জনগণ আপনাদের (সরকার) পাশে থাকবে। গণতন্ত্রে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দলগুলো আপনাদের পাশে থাকবে যদি আপনাদের ভূমিকা আরো স্বচ্ছ এবং সাহসী হয়।’

গণতন্ত্রে উত্তরণে দেশবাসীর কাছে দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করে তারেক বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন আসন্ন। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনাদের, আমাদের, আমাদের সকলের কোনো আবেগতাড়িত ও ভুল সিদ্ধান্তের কারণে রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে ভবিষ্যতে আর যাতে কোনো চরমপন্থা কিংবা ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ না পায়, সে ব্যাপারে দেশবাসীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

তারেক রহমান আরো বলেন, ‘১৯৭১ সালের শহীদ মুক্তিযোদ্ধারা যেভাবে স্মরণীয় হয়ে আছেন, ২০২৪ সালের শহীদরাও তেমনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। কোটা সংস্কার আন্দোলন ১৬ জুলাইয়ের পর আর শুধু কোটার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তখন বিশ্বাস জন্মেছিল, মাফিয়া সরকারের পতন সময়ের ব্যাপার। সেই বিশ্বাস থেকেই গণতান্ত্রিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে অংশ নেয়। এই আন্দোলন যেন একক দলের বলে পরিচিত না হয়, সেটি আমরা নিশ্চিত করেছি।’

সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্রের সঙ্কট দেখা যাচ্ছে। সংগ্রাম শেষ হয়নি। সামনে গণতন্ত্রের যে সঙ্কট দেখা যাচ্ছে সেই সঙ্কট থেকে উত্তরণ করতে হলে আমাদের অনেক সজাগ-সতর্ক থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে গণতন্ত্র উত্তরণের যে স্বপ্ন আমাদের সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে হলে আমাদের আরো সজাগ হয়ে আরো সর্তকতার সাথে আমাদের ভবিষ্যতের জন্য কাজ করতে হবে।’

অধ্যাপক তৌফিকুল ইসলাম মিথিলের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, মিডিয়া সেলের সদস্য অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আব্দুল হান্নান চৌধুরী, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আবু হোরায়রা, গণঅভ্যুত্থানের শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ, ইমতিয়াজ আহমেদ আবির, সাজ্জাদ হোসেন, সাজ্জাদ হোসেন সজলের স্বজনরা, গণঅভ্যুত্থানে আহত আল মিরাজ প্রমুখ।