খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে দেশে হত্যা, ধর্ষণ, মাদক, কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সংগঠনটি রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নেতৃবৃন্দ বলেন, গত নয় দিনে দেশে পাঁচটি শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা অবিলম্বে শিশু রামিসার হত্যাকারীসহ সব অপরাধীর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বৈঠকে নেতারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্বল তৎপরতা ও বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে দেশে অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে। কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে হাট-বাজার ও সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের সর্বস্তরে ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা, সুশাসন নিশ্চিত এবং শরিয়া আইন বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি করা হয়।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের বিরুদ্ধে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা, সীমান্ত এলাকায় স্থানীয়দের বাধা প্রদান এবং মানব ও পণ্য চোরাচালানে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়া কুরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে দেশীয় খামারি ও উদ্যোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় ভারতীয় গরু আমদানি ও চোরাচালান কঠোরভাবে দমন এবং সীমান্তে বিজিবির টহল জোরদারের দাবি জানানো হয়।
বৈঠকে আরো বলা হয়, জুলাই গণহত্যাসহ বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে ট্রাইব্যুনাল ও আদালতে জনবল বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক দণ্ডপ্রাপ্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের উদ্যোগ জোরদারের দাবি জানানো হয়। নিষিদ্ধ সংগঠনের দেশবিরোধী কার্যক্রম কঠোরভাবে দমনের আহ্বানও জানানো হয়।
সংগঠনের নায়েবে নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমীর সভাপতিত্বে ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, অধ্যাপক আবদুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, বায়তুলমাল সম্পাদক আবু সালেহীন, প্রশিক্ষণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুল হাফিজ খসরু, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শায়খুল ইসলাম, যুব বিষয়ক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম তুহিন, খন্দকার শাহাবুদ্দিন আহমদ, মুফতি আবদুল হক আমিনী, জিল্লুর রহমান, মাওলানা সাইফুদ্দিন আহমদ খন্দকার, আবুল হোসেন, প্রিন্সিপাল মাওলানা আজিজুল হক, আমির আলী হাওলাদার প্রমুখ



