ভাইভার নম্বর বাড়ানোয় সরকারি চাকরিতে দলীয়করণের ষড়যন্ত্র দেখছে শিবির

ব্যাংক-বিমা, বিচার বিভাগ এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোতেও সৎ ও যোগ্যদের সরিয়ে ‘মেরুদণ্ডহীন ও দলীয় দাসদের’ বসানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন শিবির নেতারা। তাদের ভাষ্য, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ‘বিগত গণবিচ্ছিন্ন ফ্যাসিস্ট সরকারের পদাঙ্ক অনুসরণের শামিল’।

নিজস্ব প্রতিবেদক
ইসলামী ছাত্রশিবির
ইসলামী ছাত্রশিবির |সংগৃহীত

সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর কয়েক গুণ বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটির অভিযোগ, এর মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে দলীয় প্রাধান্য বিস্তারের সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। নিয়োগে মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে বিতর্কিত ও বৈষম্যমূলক বিধিমালা অনতিবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছে তারা।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ বলেন, ‘প্রক্সি বা জালিয়াতি রোধের ঠুনকো অজুহাত দেখিয়ে’ সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

তাদের দাবি, এটি সরকারি চাকরিতে দলীয় প্রাধান্য বিস্তারের একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্তের অংশ।

বিবৃতিতে বলা হয়, নতুন বিধিমালায় ১৭ থেকে ২০তম গ্রেডে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর সমান—২৫+২৫—করা হয়েছে। একইসাথে অন্যান্য গ্রেডে ভাইভার নম্বর সর্বোচ্চ ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আওতায় ১১ ও ১২তম গ্রেডে ভাইভা ৫০ ও লিখিত ১০০ এবং ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডে ভাইভা ৪০ ও লিখিত ৬০ নম্বর করা হচ্ছে। এতে লিখিত পরীক্ষায় অর্জিত মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন খর্ব করে বিপুলসংখ্যক যোগ্য চাকরিপ্রার্থীর ন্যায্য অধিকার হরণের পথ তৈরি হবে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

শিবির নেতারা আরো অভিযোগ করেন, বর্তমান শাসকগোষ্ঠী রাষ্ট্রক্ষমতার বিভিন্ন পর্যায়ে দলীয়করণ ও একনায়কতন্ত্র কায়েম করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তাদের দাবি, সিটি করপোরেশন থেকে জেলা প্রশাসন ও সচিবালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদ পর্যন্ত মেধা ও যোগ্যতার তোয়াক্কা না করে দলীয় পদবি বিবেচনায় বিতর্কিত ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে অন্ধ দলীয় আনুগত্যকে প্রাধান্য দিয়ে ভিসি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিয়োগের অভিযোগ করেছে তারা।

ব্যাংক-বিমা, বিচার বিভাগ এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোতেও সৎ ও যোগ্যদের সরিয়ে ‘মেরুদণ্ডহীন ও দলীয় দাসদের’ বসানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন শিবির নেতারা। তাদের ভাষ্য, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ‘বিগত গণবিচ্ছিন্ন ফ্যাসিস্ট সরকারের পদাঙ্ক অনুসরণের শামিল’।

বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারি চাকরিতে যোগ্য জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মধ্যে যৌক্তিক ভারসাম্য থাকা জরুরি। প্রশাসনের ৬৫ শতাংশের বেশি জনবল ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের আওতাভুক্ত হওয়ায় প্রস্তাবিত সিদ্ধান্তের প্রভাব দেশের বিপুলসংখ্যক সাধারণ ও যোগ্য চাকরিপ্রার্থীর ওপর পড়বে। জালিয়াতি রোধে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর পরিবর্তে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া আরো স্বচ্ছ করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

শিবিরের নেতারা অনতিবিলম্বে বিতর্কিত ও মেধাবিরোধী বিধিমালা বাতিল করে শতভাগ স্বচ্ছ ও লিখিত পরীক্ষা-নির্ভর মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া বহাল রাখার দাবি জানান। একইসাথে দেশের তরুণ ও ছাত্রসমাজের মেধা ও ন্যায্য অধিকার সুরক্ষায় এবং জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে মেধাভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে সরকারকে আরো দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা।