দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা খেলাফত মজলিসের

ঈদ শুভেচ্ছা বার্তায় নেতৃদ্বয় বলেন, ত্যাগের মহিমায় সমুজ্জল পবিত্র ঈদুল আযহা আমাদের সকলের জীবনকে আরো উদ্ভাসিত করুন মহান আল্লাহর কাছে আমরা এই কামনা করছি। আল্লাহর নির্দেশ পালনে নবী ইব্রাহীম আ: নিজের প্রিয় সন্তানকে কোরবানি করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। অন্যদিকে, তার প্রিয় সন্তান নবী ইসমাঈল আ: ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে নিজের জীবনকে উৎসর্গিত করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা খেলাফত মজলিসের
দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা খেলাফত মজলিসের |সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহকে শুভেচ্ছা জানিয়ে খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ ও মহাসচিব ড: আহমদ আবদুল কাদের বলেছেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট শাসনে নিষ্পেষণের পর জনগণ এবার দ্বিতীয় বারের মতো নির্ভীক চিত্তে ঈদুল আযহার আনন্দ উদযাপন করতে যাচ্ছে। ফ্যাসিস্ট অপশক্তির নির্মম নির্যাতনে হতাহতদের পরিবারগুলোতেও ঈদের নির্মল আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক কামনা করছি। শহীদ পরিবারগুলোতেও ঈদের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

সোমবার এক বিবৃতিতে সংগঠনের আমির ও মহাসচিব এ আহ্বান জানান।

ঈদ শুভেচ্ছা বার্তায় নেতৃদ্বয় বলেন, ত্যাগের মহিমায় সমুজ্জল পবিত্র ঈদুল আযহা আমাদের সকলের জীবনকে আরো উদ্ভাসিত করুন মহান আল্লাহর কাছে আমরা এই কামনা করছি। আল্লাহর নির্দেশ পালনে নবী ইব্রাহীম আ: নিজের প্রিয় সন্তানকে কোরবানি করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। অন্যদিকে, তার প্রিয় সন্তান নবী ইসমাঈল আ: ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে নিজের জীবনকে উৎসর্গিত করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু সেস্থলে মহান আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা ইসমাইল আ:-এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানির ব্যবস্থা করেন। তাদের এই আনুগত্য ও আত্মত্যাগের ঘটনাকে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে পরবর্তীদের জন্য স্মরণীয় ও অনুকরণীয় করে রাখার ব্যবস্থা হচ্ছে পবিত্র হজ ও ঈদুল আযহায় পশু কোরবানি।

পশু জবাই করার সাথে সাথে আমাদের মনের পশুত্বকেও কোরবানি দিয়ে ইসমাঈলী চেতনায় নিজেদের শানিত করতে হবে। পবিত্র ঈদুল আযহা আমাদেরকে মহান আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ এবং তাকওয়াভিত্তিক একটি সমৃদ্ধ সমাজ বিনির্মাণে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের শিক্ষা দেয়। ঈদুল আজহা সমাজে সমতা, দানশীলতা ও ভাতৃত্ববোধ শিক্ষা দেয়।

খেলাফত মজলিস নেতৃদ্বয় আরো বলেন, দরিদ্র-অসহায় মানুষও যাতে ঈদের দিন কোরবানির গোশত উপভোগ করতে পারে সামর্থবানদের এক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে। কোরবানি পশুর চামড়ার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতে সরকারকে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নারী-শিশুর নিরাপত্তাসহ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হবে। সড়ক ও ঘর-বাড়ির নিরাপত্তায় প্রশাসনের সর্বোচ্চ সহযোগীতা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।

নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে জাতিসঙ্ঘ ও মুসলিম বিশ্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। মিয়ানমারের উদ্বাস্তু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নাগরিক অধিকার দিয়ে আরাকানে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ সরকারের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করছি। ভারতের বিভিন্ন রাজ্য সরকার ঈদুল আজহায় পশু কোরবানিতে বাধাদান করছে। আমরা ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সকল নির্যাতিত মানুষের মুক্তি কামনা করছি।