৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ, পরে ঢাকায় মহাসমাবেশ

বিদ্যুৎ-গ্যাস সঙ্কট নিরসন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি ১১ দলের

বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডের ২৯ নম্বর সরকারি বাসভবনে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপির সভাপতিত্বে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান নেতারা।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়
রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় |সংগৃহীত

বিদ্যুৎ ও গ্যাস সঙ্কট, শিল্পকারখানা বন্ধ এবং অর্থনৈতিক চাপসহ দেশের চলমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। একই সাথে দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংসদীয় জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার দাবি জানিয়েছে জোটটি।

বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডের ২৯ নম্বর সরকারি বাসভবনে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপির সভাপতিত্বে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান নেতারা।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়্যুম সোবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী, বাংলাদেশ জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আবদুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম এবং বিডিপির জেনারেল সেক্রেটারি নিজামুল হক নাঈমসহ অন্য নেতারা।

বৈঠক শেষে নেতারা বলেন, দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সঙ্কট, শিল্পকারখানা বন্ধ এবং অর্থনৈতিক চাপসহ নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। এসব সঙ্কট মোকাবিলায় সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে তারা বলেন, সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোতে বিরোধী দলের সদস্যদের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটিগুলোর সভাপতির দায়িত্বও বিরোধী দলকে দেওয়া প্রয়োজন। সংসদীয় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ ব্যবস্থা জরুরি।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন নেতারা। তারা বলেন, মানবাধিকার কমিশন, বিচারব্যবস্থা ও অন্যান্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে আরো শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক করতে হবে।

দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি তুলে ধরে নেতারা বলেন, বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় লোডশেডিং হচ্ছে। একই সাথে গ্যাস ও জ্বালানি সঙ্কটের কারণে শিল্পকারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর প্রভাব দেশের উৎপাদন ও রপ্তানি খাতে পড়তে পারে।

১১ দলীয় ঐক্যের চলমান কর্মসূচি প্রসঙ্গে নেতারা জানান, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন বিভাগে কর্মসূচি পালন শেষে ঢাকায় মহাসমাবেশ করা হবে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার অধিকার প্রসঙ্গে নেতারা বলেন, কোনো প্রশ্ন পছন্দ না হলেও সাংবাদিকদের হুমকি বা ভয় দেখানো গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য ইতিবাচক নয়। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে প্রশ্ন করার অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তারা আরো বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পূর্বের অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়ন না হওয়ায় দেশে বারবার একই ধরনের সঙ্কট তৈরি হচ্ছে। শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও কার্যকর পরিবর্তন আনতে হবে।