বিভক্তিতে স্বৈরাচার ফেরার পথ সুগম হবে : জাহিদ হোসেন

‘কোনো বিভেদ-বিভাজন আপনাকে আমাকে শক্তিশালী করবে না। মনে রাখতে হবে ঐক্যবদ্ধভাবে থাকার কারণে স্বৈরাচার পালিয়েছে, (ঐক্যবদ্ধ থাকলে) স্বৈরাচার ফেরত আসার পথ সুগম হবে না।’

অনলাইন প্রতিবেদক
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের শ্রদ্ধা নিবেদন
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের শ্রদ্ধা নিবেদন |নয়া দিগন্ত

বিভক্তিতে স্বৈরাচার ফেরার পথ সুগম হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

শুক্রবার সকালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণের পরে ডাকসু ও জাকসু নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মধ্যে ছাত্র সংসদের যে নির্বাচন হচ্ছে- আপনারা দেখতে পাচ্ছেন এটি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। গতকালকে যে জাকসু নির্বাচন হয়েছে সেখানে শুধু ছাত্রদলের কথা কেনো বলেন, সেখানে বিভিন্ন প্যানেল, স্বতন্ত্রপ্রার্থী, ইভেন শিক্ষকরা পর্যন্ত নির্বাচন থেকে অনেকেই সরে দাঁড়িয়েছেন। নিশ্চয়ই সেখানে কোনো না কোনো কারণ আছে। কাজেই আমার বক্তব্য থাকবে অত্যন্ত সুস্পষ্ট।’

তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ ২০০৯ এ ভোট দিতে পারে। ১৪-তে ভোটারবিহীন নির্বাচন হয়েছে, ১৮-তে দিনের ভোট রাতে হয়েছে, ২৪-এ আমি-ডামি নির্বাচন হয়েছে। কাজেই বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি আস্থা রাখতে চায়। যারা এ সমস্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তাদের উচিত হবে এমন কোনোনির্বাচন আয়োজন না করা যে নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন আসবে, মানুষ দ্বিধাগ্রস্ত হবে, নির্বাচন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বি দলসমূহ সরে যাবে।’

ডাকসু নির্বাচনে পেশাগত দায়িত্বপালনকালে সাংবাদিক তরিকুল ইসলাম এবং জাকসুতে নির্বাচনের দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌসের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন জাহিদ।

তিনি বলেন, ‘আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, কোনো বিভেদ-বিভাজন আপনাকে আমাকে শক্তিশালী করবে না। মনে রাখতে হবে ঐক্যবদ্ধভাবে থাকার কারণে স্বৈরাচার পালিয়েছে, (ঐক্যবদ্ধ থাকলে) স্বৈরাচার ফেরত আসার পথ সুগম হবে না। কিন্তু কেউ যদি স্বৈরাচারকে পুনর্বাসিত করতে চান, তাহলে এই ধরনের প্রহসনমূলক ব্যবস্থার আয়োজন করবেন যেটি সত্যিকার অর্থে শেষ বিচারে ভালো বলে পরিগণিত হবে না।’

তিনি বলেন, ‘এখনো সময় আছে, সবার প্রতি আহ্বান আপনারা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হন। গণতন্ত্রের জন্য যারা লড়াই করেছেন তারা কোনো অবস্থাতেই বিভাজনের রাজনীতিতে যাবেন না। ঐক্যের রাজনীতিতে আসুন। জনগণের মনের ভাষা বুঝতে চেষ্টা করুন। জনগণের উপর দায়িত্ব দিন।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘যারা এই সকল প্রক্রিয়া (নির্বাচন) সাথে সম্পৃক্ত তাদেরকে বলব, বামেও যাবেন না ডানেও যাবে না, মধ্যবর্তী অবস্থা অবলম্বন করুন এবং ভোটারদের সাথে জনগণের সাথে পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে চলুন। কোনোদিকে হেলে পড়ার দরকার নেই। আপনি আপনার নিরপেক্ষতা দিয়েই প্রমাণ করবেন এবং আগামী দিনের ভবিষ্যৎ স্বীকৃতি দেবে আপনার অবস্থান কী ছিল। আর কেউ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবে, সেই নির্বাচনের সাথে সম্পৃক্ত কর্মকর্তারা শিক্ষকরা সরে দাঁড়াবে এটা গ্রহনযোগ্য নয়।’

তিনি বলেন, ‘আজকে পলায়নকৃত স্বৈরাচার এবং দেশবিরোধী শক্তির ঐক্য সেটি যদি আমাদের রুখতে হয় তাহলে মনে রাখতে হবে দেশের সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে, তাদেরকে সাথে নিয়ে এবং গণতন্ত্রকামী মানুষকে সাথে নিয়ে আজকে আমাদের এই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, জনগণের শক্তির সামনে, জনগণের ইচ্ছার সামনে, জনগণের আকাঙ্ক্ষার সামনে গণতন্ত্রের প্রতি জনগণের যে অদম্য স্পৃহা এটিকে থামিয়ে দেয়ার শক্তি কোনো ষড়যন্ত্রকারীর নেই।’

এ জেড এম জাহিদ হোসেন আরো বলেন, ‘সারা পৃথিবীতে দেখা গেছে, যখনই কোনো দুর্যোগ-দুর্বিপাক আসছে, যখনই কোনো স্বৈরাচারের উদ্ভব হয়েছে জনগণই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং বিগত ৩৬ জুলাই জনগণই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ছিল, সেই আন্দোলন এক দফার আন্দোলনের রূপ লাভ করেছে জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমেই।’

ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিইএব)-এর আহ্বায়ক মো: হানিফ ও সদস্য সচিব কাজী শাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীদের নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেলা ১১টায় শেরে বাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরে যান এবং কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

পরে নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির নেতারা কবরের সামনে মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে শপথবাক্য পাঠ করেন। গত ৩ সেপ্টেম্বর প্রকৌশলী মো: হানিফের নেতৃত্বে ৩৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়।