জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান তিনি।
এ সময় এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতুসহ দলটির নেতারা জামায়াত আমিরকে স্বাগত জানান। তার সাথে ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ ও প্রচার কমিটির সদস্য মুহাম্মদ জাহিদুর রহমান।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা দেশ ও জনগণের জন্য এনসিপিসহ একসাথে কাজ করছি। সংসদের ভেতরে ও বাইরে এবং বিগত নির্বাচনে একসাথে লড়াই করেছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা গঠনমূলক বিরোধীদল হিসেবে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছি। সরকারের দুটি অঙ্গ—একটি সরকারি দল, অন্যটি বিরোধীদল। এছাড়া দেশ চলে না। বিরোধীদল ছাড়া গণতন্ত্র শূন্য। সংসদে বিরোধীদল হিসেবে যেটুকু পাওনা, সেখানে আমরা বহুলাংশে বঞ্চিত হচ্ছি।’
সংসদের বাইরেও বৈষম্য পাকাপোক্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘তিনশ আসনের ফান্ডের বরাদ্দ দেয়ার ক্ষেত্রে সরকারি দলকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এর ধারে কাছেও নেই বিরোধীদলের এমপিরা। সরকারি বরাদ্দ কোনো দলের নয়। সরকারি দল নির্বাচনের আগে বলেছিল, বৈষম্য করবে না এবং দেশের সুষম উন্নয়নে হাত দেবে।’
তিনি বলেন, উন্নয়ন নাগরিক অধিকার। একটি দেশে বৈষম্য সৃষ্টি হলে সামাজিক অসন্তোষ দেখা দেয়। স্থিতিশীল সমাজ গড়ে না উঠলে দেশ কখনো এগিয়ে যেতে পারবে না। আর স্থিতিশীল সমাজ গড়ে তোলার মূল দায়িত্ব সরকারের।
সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রেও বৈষম্য করা হচ্ছে অভিযোগ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী সদস্যদের বিরোধীদলের এমপিদের আসনে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে বসানো হয়েছে। একটি দেশ ও জাতি এভাবে এগিয়ে যেতে পারে না।’
বর্তমান আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় যে আন্দোলন করছি, তা জনগণের দাবি বাস্তবায়ন এবং গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের জন্য। সরকার আমাদের রাজপথে ঠেলে দিয়েছে। আমরা এর সমাধান সংসদের ভেতরে চেয়েছিলাম।’
তিনি বলেন, ‘আমরা কথা দিচ্ছি, বাংলাদেশে আরেকটি নতুন ফ্যাসিবাদ কায়েম হতে দেবো না।’
পরিশেষে এনসিপি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির।



