জগন্নাথ হলে শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর ওপর ছাত্রদলের হামলার তীব্র নিন্দা

পাশাপাশি, ডাকসুর ভিপি (সহ-সভাপতি) এই বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি , প্রো-ভিসি এবং প্রক্টরের সাথে যোগাযোগ করে ঘটনার দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের কঠোর শাস্তি এবং ভিকটিমের পূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

​জগন্নাথ হলের রুমে ঢুকে একজন ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড (শারীরিক প্রতিবন্ধী) শিক্ষার্থীর ওপর ছাত্রদলের চারজনের নৃশংস হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। এই ঘটনার প্রতিবাদে ডাকসুর একটি প্রতিনিধিদল হল প্রশাসনের সাথে জরুরি সাক্ষাৎ করেছে।

​সাক্ষাৎকালে ডাকসুর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর ছাত্র পরিবহন বিষয়ক সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন এবং কার্যনির্বাহী সদস্য মিফতাহুল হোসাইন আল মারুফ। ডাকসুর নেতৃবৃন্দ হল প্রশাসনের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং এই ঘটনায় অতি দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের স্থায়ী বহিষ্কারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মুখোমুখি করার জোর দাবি জানান।

অভিযুক্তরা হলেন-

১. ঝলক দাস (২০-২১ সেশন, যুগ্ম আহ্বায়ক, জগন্নাথ হল ছাত্রদল)

২. চন্দন দাস (২০-২১ সেশন, যুগ্ম আহ্বায়ক, জগন্নাথ হল ছাত্রদল)

৩. রিপন (মার্কেটিং, ২১-২২ সেশন, যুগ্ম আহ্বায়ক, জগন্নাথ হল ছাত্রদল)

৪. সাগর (ম্যানেজমেন্ট, ২১-২২ সেশন, ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী)

​জানা যায়, ঘটনার দিন এই চারজনের উপস্থিতিতে সামান্য তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তারা হলের রুমের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে ওই শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ভিক্টিম অভয় কুমার সিংহকে বেধড়ক মারধর করে, যার ফলে ভিকটিম মারাত্মকভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বর্তমানে ভিকটিম হল প্রশাসনের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ইতোমধ্যে হল প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ডাকসুর দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে আসামিদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে এবং ভিকটিমের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ডাকসুর পক্ষ থেকে শক্ত ভাষায় সতর্ক করা হয়েছে যে, কোনোভাবেই যেন রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অপরাধীদের পার পাইয়ে দেয়ার চেষ্টা না করা হয়। ডাকসু মনে করে জুনিয়র কর্তৃক সিনিয়র শিক্ষার্থীর ওপর এই ধরনের ন্যাক্কারজনক হামলা কোনো রাজনৈতিক ব্যাকআপ ছাড়া সম্ভব নয়। অপরাধীদের রক্ষা করতে ব্যাকডোরে নানামুখী অপতৎপরতার আশঙ্কা প্রকাশ করে হল প্রশাসনকে এ বিষয়ে দৃঢ় থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

​হল প্রশাসন আশ্বস্ত করেছে যে, তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। ​পাশাপাশি, ডাকসুর ভিপি (সহ-সভাপতি) এই বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি , প্রো-ভিসি এবং প্রক্টরের সাথে যোগাযোগ করে ঘটনার দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের কঠোর শাস্তি এবং ভিকটিমের পূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।