‘ড. ইউনূস-তারেক বৈঠক রাজনীতিতে সুবাতাস বয়ে আনবে’

‘গোটা জাতি আজ লন্ডনের দিকে তাকিয়ে আছে। আমরা বিশ্বাস করি এটি হবে ঐতিহাসিক বৈঠক এবং এ বৈঠকের মাধ্যমে দেশের রাজনীতিতে সুবাতাস বইবে।’

অনলাইন প্রতিবেদক
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী |নয়া দিগন্ত

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগামী ১৩ জুন সকালে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘গোটা জাতি আজ লন্ডনের দিকে তাকিয়ে আছে। আমরা বিশ্বাস করি এটি হবে ঐতিহাসিক বৈঠক এবং এ বৈঠকের মাধ্যমে দেশের রাজনীতিতে সুবাতাস বইবে।’

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে ডিসেম্বরে নির্বাচনের যৌক্তিকতা তুলে ধরেছে বিএনপি। যৌক্তিক সময়েই নির্বাচন হবে বলে জাতি প্রত্যাশা করে। আলোচনার মধ্য দিয়ে নির্বাচনসহ সকল সমস্যা সমাধান সম্ভব।’

বুধবার দুপুরে বিএনপির নয়া পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের প্রতি ভয়ঙ্কর বিদ্বেষপরায়ণ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে শেখ হাসিনার পতনের পর তারা হিংস্র হয়ে উঠেছে। বিদেশী তকমা দিয়ে প্রতিদিন পুশইন হচ্ছে। পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া লাগানোর প্রচেষ্টা করছে। সীমান্ত এলাকায় পুশইনের হিড়িক লেগেছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের লোককে বিদেশী বানিয়ে ভারত বাংলাদেশে পুশইন করতে চাইলে প্রতিবাদের পাশাপাশি প্রতিরোধ করবে বাংলাদেশ। ভারতকে মনে রাখতে হবে, অত্যাচার-নিপীড়ন করে শেখ হাসিনাও টিকে থাকতে পারেনি।’

সম্প্রতি করোনা প্রকোপ বৃদ্ধি প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে রিজভী বলেন, ‘ভারতে এরই মধ্যে সাত হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। বাংলাদেশেও আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে একজনের মৃত্যুও হয়েছে।’

রুহুল কবির রিজভী এ বিষয়ে সরকারকে দ্রুত করণীয় নির্ধারণ করে প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান।

সুরক্ষার বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পাশাপাশি তিনি ডেঙ্গু মোকাবেলায় সরকারের সাথে জনগণকে আরো এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

ঈদযাত্রাকে ঘিরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৫৭ জন মৃত্যুর সংবাদে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বেপরোয়া গাড়ি চালানোর জন্য এই দুর্ঘটনা বেড়েছে। এছাড়াও ঈদে সমাজবিরোধীদের দৌরাত্মও ছিল। ফ্যাসিবাদমুক্ত নির্ভয়ে ঈদ উদযাপন আনন্দের ছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতির অবনতি দেখা গেছে। প্রশাসন আরো তৎপর হলে তা কমানো সম্ভব হতো।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাইদ সোহরাব, সদস্য মাহবুব ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক অধ্যাপক ইমতিয়াজ বকুল, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল প্রমুখ।