আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিলের যে শুনানি চলছে সেটি সম্পূর্ণ এক ধরনের ফেব্রিকেটেড শুনানির রায় দেয়া হয়েছে এবং একপাক্ষিক বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ।
রোববার রাত ৯টায় এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ তোলেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, ‘একেবারে রাইসওয়াপ করার মতো অলমোস্ট প্রত্যেকটা দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপীদের ছাড় দেয়া হয়েছে এবং নির্বাচনে অংশ নেয়ার বৈধতা দেয়া হয়েছে।
এনসিপির এই মুখপাত্র জানান, দুপুর একটা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রায় সাত ঘণ্টা নির্বাচন কমিশন ভবনে আপিল শুনানিতে ছিলেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ আপিল শুনানির পরিবেশকে ‘এক ধরনের নাটকের মতো মঞ্চায়িত হয়েছে’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, আপনারা সবাই বোধ হয় বলিউডের একটা মুভি দেখছেন জলি এলএলবি। আমার বারবার এটার কথা মনে হচ্ছিলো এই সাত ঘণ্টায়। আমরা দেখলাম নির্বাচন কমিশনের শুনানি চলাকালে ‘ল’ পয়েন্টের বাইরেও প্রেশার পয়েন্ট, ইমোশনাল পয়েন্ট, ড্রামা পয়েন্ট অনেক পয়েন্টের ভিত্তিতে আজকে জাজমেন্ট দেয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এবং পুরো জিনিসটা এক ধরনের নাটকের মতো মঞ্চায়িত হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের সামনে ‘দুই-তিন হাজার ছাত্রদলের নেতাকর্মী একধরনের মব সৃষ্টি করেছে আজকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে বাইরে থেকে একটা এক্সটার্নাল প্রেশার তৈরি করে রেখেছেন’ বলে অভিযোগ করেন তিনি।
একইসাথে শুনানি চলাকালীন সময়ে বিএনপি মহাসচিবের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাথে সাক্ষাৎকে ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য অশনি সঙ্কেত’ বলেও দাবি করেছেন আসিফ মাহমুদ।
তিনি বলেন, শুনানির একটা পর্যায় শেষ হওয়ার পরে এবং রায় দেয়ার পূর্ব মুহূর্তে, যখন আমি আপনি বিচারকের কাছে কোনো বিচার চাইতে যাই, তখন আমাদের আর্গুমেন্ট শেষ, রায় দেয়ার পূর্ব মুহূর্তে বিচারক যদি পাশের রুমে গিয়ে অপরাধীর সাথে বা অপরাধীর লইয়ারের সাথে কিংবা অপরাধীর পক্ষের সাথে যারা আছে তাদের সাথে বসে রায় দেয় তাহলে ওই রায়টা কোনোভাবেই একটা নিরপেক্ষ হওয়ার সুযোগ নেই।
১৫ মিনিটের কথা বলে নির্বাচন কমিশনাররা দেড় ঘণ্টা পর ওই বৈঠক শেষে রায় দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলো এবং দেশের জনগণ এই নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা হারিয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা মনে করি আজকে এবং গতকালকে পুরো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য যে কনফিডেন্স দেশের জনগণ ও রাজনৈতিক দলের কাছে থাকার কথা ছিলো সেটা হারিয়েছে।
তার দাবি- যদি এরকমভাবে নির্বাচন কার্যক্রম সামনের দিকে যেতে থাকে তাহলে আমরা শঙ্কা করছি এই নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে পারবে না।



