আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ফেরাতে দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ।
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেশে নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল। শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নয় বিগত ১৫ বছরে দেশে গুম-খুন করেছিল আওয়ামী লীগ। প্রশাসনকে দলীয়ভাবে ব্যবহার করে একদলীয় শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল। জুলাই আন্দোলনেও মানুষকে হত্যা করে অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিল। জনগণের আন্দোলনের মুখে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিল ফ্যাসিস্ট হাসিনা। যে আওয়ামী লীগ দেশে গণহত্যা চালিয়েছিল তাদেরকে বিচারের আগে কোনোভাবে বাংলাদেশে রাজনীতি করতে দেয়া হবে না। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ফেরাতে দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। বিচারের আগে আওয়ামী লীগ কোনোভাবে নির্বাচন করতে পারবে না। আওয়ামী লীগ দেশে গত ১৫ বছর দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল।’
শনিবার (১৬ আগস্ট) বিকেলে শেরপুর শহরে একটি কমিউনিটি সেন্টারে গণঅধিকার পরিষদ শেরপুর জেলা শাখা আয়োজিত ‘২০১৮-২০২৪ : কোটা সংস্কার থেকে রাষ্ট্র সংস্কার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে গণঅধিকার পরিষদ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আবু হানিফ বলেন, ‘আজকের এই শীর্ষক শিরোনামটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ১৮ সালে কোটা বৈষম্যের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিলাম। সেই কোটা বাতিল হয়েছিল তখন, ২৪ সালে সেই কোটা ফেরত আনার চেষ্টা করলে আবার আন্দোলন শুরু সেই আন্দোলন হাসিনার পতন নিশ্চিত করে। আমরা গত সাত বছর হাসিনার ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলাম। এই দেশের তরুণদের সংগঠিত করেছিলাম, সেই তরুণরাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর বিডিআর হত্যাকাণ্ড ,শাপলা হত্যাকাণ্ড, গুম-খুনসহ এমন কোনো অপকর্ম নেই যা আওয়ামী লীগ করে নাই। ৭২-এর পর শেখ মুজিব বাংলাদেশে বাকশাল কায়েম করেছিলেন। শেখ মুজিবের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে গিয়ে হাসিনা ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিলেন। জনগণ সেই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিল। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আর কাউকে ফ্যাসিবাদ হতে দেয়া হবে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শেরপুর জেলার আগের চলা চিত্র পরিবর্তন হয় নাই। এখানে আওয়ামী লীগ রাজত্ব করতো এখন অন্য একটা দল রাজত্ব করে। আগে এই এলাকার সীমান্তে অবৈধ চুরি চালানের সাথে জড়িত ছিল আওয়ামী লীগ, এখনো প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক কিছু নেতাকর্মীরা এসবের সাথে জড়িত। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও শেরপুরের সামীন্ত এলাকায় অবৈধ চুরি চালানের ব্যবসা বন্ধ হয়নি। শেরপুরের গারো পাহাড়ে অবৈধ পাথর এবং বালু উত্তোলন করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা সেখানে দেখা গেছে সব দলের ঐক্য হয়েছে, মিলেমিশে সবাই ভাগবাটোয়ারা করছে, প্রশাসন কিছুই বলে না। আওয়ামী লীগের আমলের দখলদারি, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি চলমান রয়েছে, পরিবর্তন হয়েছে শুধু হাতের। আওয়ামী লীগের অবৈধভাবে আয়ের পথ এখনো বন্ধ হয়নি বরং একটি রাজনৈতিক দল সেই আয়ের উৎসের দেখভাল করছে।’
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও এসব কোনোভাবে মেনে নেয়া যাওয়া না। গণঅধিকার পরিষদ চাঁদাবাজ, দখলবাজমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে কাজ করে যাচ্ছে।’
প্রধান আলোচক হিসেবে বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি মনজুর মোরশেদ মামুন বলেন, ‘২০১৮ কোটা সংস্কার আন্দোলনই এদেশের তরুণদের উজ্জীবিত করে। যখন আওয়ামী লীগের পতনের আশা বড় বড় রাজনৈতিক দল ও নেতারা ছেড়ে দিয়েছিল, তখন গণঅধিকার পরিষদ আওয়ামী লীগ ও হাসিনার লেলিয়ে দেয়া পুলিশের রক্তচক্ষু ও বুলেট উপেক্ষা করে হাসিনা পতন আন্দোলনের দাবানল জ্বালান। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচার হাসিনার পতন ঘটে। যেই ২০১৮ কোটা সংস্কারই ২০২৪ জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত করেছে সে ইতিহাসকে জুলাই ঘোষণাপত্রে অবজ্ঞা করা হয়েছে।’
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন গণঅধিকার পরিষদ শেরপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক আরিফ আহমেদ। সদস্যসচিব শামসুজ্জামান শিবলুর সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন গণঅধিকার পরিষদের ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজহারুল ইসলাম, জেলা গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক শহিদুল ইসলাম সোহাগ, কাজী হায়াৎ, মনিরুজ্জামান মনির, অ্যাডভোকেট এনামুল, ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক সহ-সভাপতি, দূর্জয় হাসান, যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি কামরুজ্জামান সরকার, শ্রমিক অধিকার পরিষদের সভাপতি ওয়াজকুরুনি প্রমুখ।



