মাহদী আমিন

‘ধানের শীষের নিরঙ্কুশ বিজয় সুনিশ্চিত, প্রধানমন্ত্রী হবেন তারেক রহমান’

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

অনলাইন প্রতিবেদক
ব্রিফিংয়ে মাহদী আমিন
ব্রিফিংয়ে মাহদী আমিন |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ‘ধানের শীষের’ নিরঙ্কুশ বিজয় সুনিশ্চিত। আর এ জয়ে দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, দেশী-বিদেশী গণমাধ্যমের প্রতিবেদন, বিভিন্ন গ্রহণযোগ্য প্রতিষ্ঠানের পর্যালোচনা বা জরিপ, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভায় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ও ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং মাঠের বাস্তবতার নিরিখে বিএনপি জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে সর্বোচ্চ চূড়ায় অবস্থান করছে। সারা দেশে ধানের শীষের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে, ধানের শীষের নিরঙ্কুশ বিজয় সুনিশ্চিত।

তিনি আরো বলেন, ‘আজকের বাংলাদেশে যদি জিজ্ঞেস করা হয় সত্যিকার অর্থে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মতো নেতা যদি একজন থাকেন, তাহলে তিনি কে? সবাই একটি উত্তরই বলবেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আর কোনো রাজনৈতিক দলে এমন কোনো নেতৃত্ব নেই, যাকে দল-মত, শ্রেণি-পেশার ঊর্ধ্বে উঠে, সর্বজনীনভাবে দেশের সত্যিকার নেতা হিসেবে মানুষ মনে করা হয়। এই প্রমাণ আমরা দেখেছি তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে। যে দিনটি হয়ত ছিল বিশ্ব ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দেশে ফেরার জমায়েত। আমরা দেখেছি, তিনি দেশজুড়ে প্রতিটি সভায় যখন ছুটে গিয়েছেন, তখন কিভাবে জনগণের জোয়ার নেমে এসেছে। কিভাবে জনতা তাকে দেখতে রাস্তায় নেমে এসেছে, তার সাথে হাত মেলাতে এগিয়ে এসেছেন অসংখ্য মানুষ। নেতৃত্বের প্রতি এই ভালোবাসা, এই আস্থা, আর কোনো রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের প্রতি নেই।’

‘একটি দল নারীর অধিকার ও স্বাধীনতাকে সংকুচিত করতে চাচ্ছে’

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র বলেন, শুধু নারীদের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠাই না, গার্মেন্টস শিল্পের মাধ্যমে নারীদেরকে কর্মক্ষম করে তোলা, সরকারি এবং বেসরকারি ক্ষেত্রে নারীদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি করা, মেয়েদের জন্য বৃত্তি এবং অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করা, প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়নে বিএনপি অনন্য। আর তাই তো দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ধরা হয় বিশ্বব্যাপী নারীর ক্ষমতায়নের রোল মডেল হিসেবে। অন্যদিকে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী যে রাজনৈতিক দল, তারা নারীদের বিষয়ে প্রতিনিয়ত অশালীন বক্তব্য দিচ্ছে, নারীর অধিকার এবং স্বাধীনতাকে সংকুচিত করতে চাচ্ছে, কর্মঘণ্টাকে কমিয়ে আনতে চাচ্ছে। যেখানে সবচেয়ে বেশি নারী সংসদ সদস্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি, তার বিপরীতে দাঁড়িয়ে তারা একজন নারী প্রার্থীকেও মনোনয়ন দেয়নি। স্বাভাবিকভাবেই দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী যে নারী, তারা সেই রাজনৈতিক দলটির নারী বিদ্বেষী আচরণে মর্মাহত, সংক্ষুব্ধ।

প্রশাসন নিয়ে অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান

মাহদী আমিন বলেন, আমরা দেখতে পেয়েছি প্রশাসনের ও নির্বাচন পরিচালনার সাথে যুক্ত একটি অংশের সাথে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পর্ক রয়েছে বলে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমরা মনে করি এটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও দূরত্ব সৃষ্টির অপচেষ্টা। রাষ্ট্রের প্রতিটি সংস্থা, নির্বাচন কমিশন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের উপর জনগণের মতো আমরা আস্থা রাখতে চাই। সুতরাং এই বিভ্রান্তি ছড়ানো নিন্দাজনক এবং যারা এটি করছে তাদের প্রতি আমরা আহ্বান জানাবো অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য।

‘বিশেষ রাজনৈতিক দলের সাথে সংশ্লিষ্টতা ৭টি নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সংস্থার’

মাহদী আমিন বলেন, আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, গত ২৬ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন মোট ৮১টি সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন স্থানীয় পর্যবেক্ষক অনুমোদনের কথা জানায়। এর মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত এবং পর্যবেক্ষণ কাজে অভিজ্ঞতাহীন ১৬টি সংস্থা থেকে ৩১ হাজার ৮০১ জন পর্যবেক্ষককে অনুমতি প্রদান করা হয়, যা মোট পর্যবেক্ষকের ৬৮.৮৯%। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি সংগঠনের সাথে বিশেষ রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতার খবর সংবাদ মাধ্যমে এসেছে।

সংস্থাগুলো হচ্ছে- রিসডা বাংলাদেশ ১৬৪৫ জন, বাকেরগঞ্জ ফোরাম ১০৫০ জন, অ্যাসোসিয়েশন অব মুসলিম ওয়েলফেয়ার অ্যাজেন্সিজ ইন বাংলাদেশ ৬৪৩ জন, একটিভ এইড ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন ১০৩৫ জন, ইমপ্যাক্ট ইনিশিয়েটিভ ১৫৩৫ জন, দীপ্ত মহিলা উন্নয়ন ৩৯৮ জন ও কমিউনিটি অ্যাসিস্ট্যান্স ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট ৩৮৬১ জন। ইতোমধ্যে বিএনপি’র পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়ে পত্র দেয়া হয়েছে।