মাওলানা আব্দুল হালিম

স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষের কথা বলে বিভাজন তৈরির অপচেষ্টা চালানো হয়েছে

জামায়াতে ইসলামী ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক একটি বাংলাদেশ গড়তে চায়।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনে জামায়াতের আয়োজনে জেলা শহরের পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে অনুষ্ঠিত যুব সম্মেলন
ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনে জামায়াতের আয়োজনে জেলা শহরের পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে অনুষ্ঠিত যুব সম্মেলন |সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম বলেছেন, অতীতের সরকারগুলো স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষের কথা বলে বাংলাদেশের মানুষের মাঝে বিভাজন তৈরীর অপচেষ্টা চালিয়েছে। তাদের মতের বিরুদ্ধে দেশ ও জাতির স্বার্থে কথা বললেই রাজাকার, মৌলবাদ, উগ্রবাদ আখ্যায়িত করার প্রবণতা দেখা গেছে।

শুক্রবার (২২ আগস্ট) ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে জেলা শহরের পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে অনুষ্ঠিত যুব সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগের পতনের পর এখন আরেক দলের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূলের কর্মীরাও আলেম-ওলামাদের রাজাকার-মৌলবাদী হিসেবে আখ্যায়িত করছে। আবার তারা দেশ ছাড়তেও স্লোগান দেয়। অথচ তাদের নেতারাই দেশ ছাড়া। কেউ দুর্নীতি করে, কেউ জনগণের সম্পদ লুট করে, আবার কেউ মুচলেকা দিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। কিন্তু বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতা-কর্মী আজ পর্যন্ত দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়নি। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আধিপত্যবাদী গোষ্ঠীর দোসর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। জীবন ও রক্ত দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, রাজাকার-মৌলবাদী হিসেবে যেই আলেমদের আখ্যায়িত করা হয়, হয়েছে তাদের কেউ কিন্তু এই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়নি। বরং প্রত্যেকেই দেশ ও জাতির স্বার্থে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রেখেছে। যাদের নিজেদের ভাষায় এত এত দেশপ্রেম, তারাই কিন্তু দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। কেউ বিদেশে আত্মগোপনে থেকে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, কেউ বিদেশের মাটিতে বসে আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে প্রোপ্রাগান্ডা ছড়াচ্ছে।

এ সময় তিনি আরো বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের পর চব্বিশে দেশের ছাত্র-জনতা, নারী-পুরুষ সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দলমত নির্বিশেষে আন্দোলনের ফলে ফ্যাসিবাদ ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। আমরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব। সামনে নির্বাচন, এই নির্বাচনে আমরা প্রতিযোগিতা করব। কিন্তু আমরা হিংসা করব না এবং ফ্যাসিবাদ সুযোগ পায় এ ধরনের কোনো কাজে আমরা লিপ্ত হবো না। ফ্যাসিবাদ আন্দোলনের স্লোগান ছিল আমরা ন্যায় বিচার চাই। আপনাদের কাছে প্রশ্ন, চাঁদাবাজি কি ন্যায় বিচার? মানুষের বাড়ি দখল করা কি ন্যায় বিচার? চাকরির জন্য টাকা চাওয়া কি ন্যায় বিচার? যদি না হয়, তাহলে আমাদের স্লোগান হচ্ছে, জামায়াতে ইসলামী নির্বাচিত হলে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই, চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে লড়াই, যারা সংখ্যালঘুদের জমি দখল করেছে, তাদের বিরুদ্ধে লড়াই। কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে নয়, সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ-দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধেই জামায়াতে ইসলামীর লড়াই। এই লড়াই জাতির চূড়ান্ত বিজয়ের লড়াই।

জামায়াতে ইসলামী ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক একটি বাংলাদেশ গড়তে চায় উল্লেখ করে মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, সৎ, যোগ্য, দক্ষ, আল্লাহ ভীরু, নৈতিক ও আদর্শিক নেতৃত্ব ব্যতিত সমাজে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হয় না। যার দৃষ্টান্ত বিগত ৫৪ বছরে বাংলাদেশ। অতীতে যারা রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্বে ছিল, তাদের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, লুটপাটের কারণে সমাজে ন্যায় ও ইসনাফ প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

বৈষম্যহীন, একটি কল্যাণ ও মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে এগিয়ে আসতে তিনি উপস্থিত যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জামায়াতে ইসলামীর ঠাকুরগাঁও-১ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক দিয়ে যাকে মনোনয়ন দিয়েছে। তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসনের যুবসমাজের আস্থার প্রতিক। তাকে বিজয়ের মাধ্যমে আগামী ঠাকুরগাঁও হবে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজমুক্ত এক আলোকিত ইসলামী সমাজ। আপনারা তার জন্য কাজ করবেন এবং তাকে নির্বাচিত করে বাংলাদেশে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি ও ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচন পরিচালক অধ্যক্ষ কফিল উদ্দিন আহাম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান বক্তা কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেন, জুলাই ২৪ -এ আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে ওঠেছিল, তার নেতৃত্ব ছিল তরুণ-যুবকদের হাতে। দীর্ঘ ১৬ বছর ওই খুনি হাসিনার বিরুদ্ধে লড়াই করে, কর্মসূচির পর কর্মসূচি দিয়ে রাজনীতিবিদরা ব্যর্থ হয়েছিল, খুনি হাসিনার পতন ঠেকাতে পারে নাই। তখনই ত্রাণকর্তা হিসাবে এ দেশের তরুণ-যুবকরা রাজপথে নেমে এলো। তাদের নেতৃত্বে সারা বাংলাদেশের আপামর জনতা একত্রিত হলো এবং এমন এক অভ্যুত্থান সংগঠিত হলো, যে অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনা শুধু নিজেই পালিয়ে যায়নি, তার মন্ত্রী-এমপিরা পালিয়েছে। এমনকি বায়তুল মোকারমের খতিব পর্যন্ত পালিয়েছে। এভাবেই তরুণরা যুগে যুগে আমাদের পথ দেখিয়েছে। আমাদের পরিবর্তনের বড় সূতিকাগার হিসাবে ভূমিকা পালন করেছে। আগামী দিনে নতুন বাংলাদেশের যে স্বপ্ন তরুণ-যুবকরা আমাদের দেখিয়েছে, তা বাস্তবায়নের মূল কারিগরের ভূমিকা তরুণ-যুবক ভাইদেরকেই পালন করতে হবে। আগামী নির্বাচনে প্রায় ১২ কোটি ভোটারের মধ্যে প্রায় চার কোটি ভোটারই হলো তরুণ-যুবক। যারা বিগত ১৬ বছরে একটি বারের জন্য ভোট দিতে পারে নাই। সুতরাং আগামী দিনে রাষ্ট্রক্ষমতা কাদের হাতে যাবে তা এই তরুণ-যুবকরাই নির্ধারণ করবেন।

শহর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা শামসুজ্জামান শাহ শামীম এবং সদর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এস. এম আদিউল ইসলামের যৌথ পরিচালনায় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য, ঠাকুরগাঁও জেলার সাবেক আমির ও ঠাকুরগাঁও-২ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল হাকিম, ঠাকুরগাঁও জেলা আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধান, জেলা সেক্রেটারি ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলমগীর।

আরো বক্তব্য রাখেন- শহর ছাত্রশিবির সভাপতি আমজাদ আলী, সদর উপজেলা আমির মাওলানা মিজানুর রহমান, ভুল্লি থানা আমির মাওলানা আব্দুর রহমান, রুহিয়া থানা আমির আব্দুল রশিদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।