জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ঐতিহাসিক প্রতিরোধ ও বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার স্মরণে ‘মাদরাসা রেজিস্ট্যান্স ডে’ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল ১০টায় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী থেকে শুরু হওয়া র্যালিটি ডেমরা রোডের ইবনে সিনা হাসপাতালের সামনে গিয়ে শেষ হয়। র্যালি শেষে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাফেজ দেলোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং অর্থ সম্পাদক ওমর ফারুক ফাহিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক সাইদুল ইসলাম এবং কেন্দ্রীয় মাদরাসা কার্যক্রম সম্পাদক হাফেজ ইসমাইল হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিবগাতুল্লাহ বলেন, ‘মাদরাসার শিক্ষার্থীরা যখন রাজপথে নেমে এসেছিল, তখন সরকার বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হতে বাধ্য হয়েছিল। জুলাই বিপ্লবের উত্তাল দিনগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গায়েবানা জানাজায় সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে ক্যাম্পাস খালি করে দেয়ার পর আন্দোলন নতুন করে যাত্রাবাড়ীকে কেন্দ্র করে সংগঠিত হয়। যাত্রাবাড়ীতে সাধারণ মানুষ, তা’মীরুল মিল্লাত মাদরাসা, দারুন্নাজাত মাদরাসাসহ বিভিন্ন কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে আসে। সেদিন বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল কার্যত ঢাকা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল।’
বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। সম্প্রতি মাদরাসার নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ফুটবল টুর্নামেন্ট চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মাদরাসার শিক্ষার্থীরা কি এ উদ্দেশ্যে সেখানে ভর্তি হয়? আমরা এ ধরনের উদ্যোগের তীব্র নিন্দা জানাই এবং সংশ্লিষ্টদের এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা একটি সুন্দর, স্বাধীন ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশের প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু এখনো সেই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। শহীদ পরিবারের স্বপ্নের ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। জনগণ যেখানে তাদের রায় দিয়েছে, সেখানে ৭০ শতাংশ মানুষের দাবিকে সম্মান জানাতে হবে। অন্যথায় বাংলাদেশের মানুষ জানে কিভাবে নিজেদের ভোটাধিকার আদায় করতে হয়। প্রয়োজনে আমরা আবারো রাজপথে নামতে এবং আত্মত্যাগ করতে প্রস্তুত।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি জরিপ ও মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী ৪৬ জন হাফেজে কোরআনসহ শতাধিক মাদরাসা শিক্ষার্থী ও আলেম-উলামা শহীদ হয়েছেন। তারা ব্যক্তিগত স্বার্থ বা সরকারি চাকরির দাবিতে নয়, বরং স্বৈরাচার পতন ঘটিয়ে ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই আত্মত্যাগ করেছেন।’
সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় মাদরাসা কার্যক্রম সম্পাদক হাফেজ ইসমাইল হোসেন, সাবেক কেন্দ্রীয় পাঠাগার সম্পাদক আব্দুল কাইউম মুরাদ, জুলাই শহীদ মুন্তাসির রহমান আলিফের বাবা গাজিউর রহমান, শহীদ আদিলের বাবা আবুল কালাম, শহীদ ওসমান পাটোয়ারীর বাবা আব্দুর রহমান এবং ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।



