আবারো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ধ্বংসের পাঁয়তারা শুরু হয়েছে : মির্জা ফখরুল

শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘মাহবুবল হক ও মাহবুবুল আলম তারা’র স্মরণে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

অনলাইন প্রতিবেদক
বক্তব্য রাখছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
বক্তব্য রাখছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর |নয়া দিগন্ত

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আজকে আবারো অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াটাকে ধ্বংস করবার পাঁয়তারা শুরু হয়েছে। এমন একটা বৈশিষ্ট্যপূর্ণ উদ্যোগ দেখতে পাচ্ছি। আমার কাছে মনে হয় যে গণতন্ত্র বিপদে পড়েছে। এই যে চতুর্দিকে বিভিন্নভাবে একটা সুপরিকল্পিত ও সচেতন প্রচেষ্টায় সবকিছুকেই ভেঙ্গে ফেলা, অর্থহীন করে ফেলা—এর মধ্য দিয়ে একটা নৈরাজ্য সৃষ্টি করার অপপ্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘মাহবুবল হক ও মাহবুবুল আলম তারা’র স্মরণে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

১৯৬২ সালের জাতীয় পরিষদের নির্বাচিত বিরোধীদলীয় সদস্য মাহবুবুল হকের ৫২তম মৃত্যুবার্ষিকী এবং জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাবেক সভাপতি মাহবুবুল আলম তারার ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখনকার রাজনীতি তো পুরোপুরিভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে এক ভয়াবহ পরিণতিতে চলে গেছে। সমস্ত রাজনৈতিক নেতাদের চরিত্রহনন করা হচ্ছে এবং সমাজের কাছে, রাজনীতির কাছে, ভবিষ্যৎ বংশধরদের কাছে তাদেরকে একটা সবচাইতে ঘৃণিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় করে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটা লক্ষ্য করে দেখবেন—অর্থাৎ রাজনীতিকে ধ্বংস করার একটা চক্রান্ত চলছে, এবং এটা কখনোই সুস্থ রাজনীতির কোনো শুভ লক্ষণ নয়। আমরা জানি না যারা এগুলো করছেন তারা সচেতনভাবে করছেন কি না? আমার কাছে মনে হয়—তারা কি এর মধ্যে সচেতন? আমার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ হলো, তারা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে যে ভাষা ও যে কনটেন্টস নিয়ে আসেন, সেটা রাজনীতির সমস্ত ধারাকে ধ্বংস করবার জন্য।’

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেন না এমন তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এজন্য সোশ্যাল মিডিয়া দেখি না। সোশ্যাল মিডিয়ায় কাজও করি না, আমার কোনো অ্যাকাউন্টও নাই। কারণ আমি দেখেছি যে ওটা মনকে বিভ্রান্ত করবে, ভুল পথে নিয়ে যেতে চাইবে এবং ভুল সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। এখন সময়টা অন্যরকম, সমাজটা অন্যরকম।’

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘এত বড় একটা আন্দোলন, এত বড় একটা অভ্যুত্থান, তারপরেই কিন্তু আমরা একটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি। আজকে আবার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে শুরু হয়েছে সেই প্রক্রিয়াটাকে ধ্বংস করবার একটা বৈশিষ্ট্যপূর্ণ উদ্যোগ দেখতে পাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আমি দেখছি একইভাবে, আমাদের কিছু কিছু দল নির্বাচনের আগে থেকে, ২০২৪-এর পর থেকে, কিছু পর থেকেই এমনভাবে তারা বিভিন্নভাবে চক্রান্ত করছেন যাতে করে গণতন্ত্র এখানে না থাকে। সৌভাগ্য আমাদের যে, আমরা একটা গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটা সরকার গঠন করতে পেরেছি। এখন এই সরকারের দায়িত্ব হবে দক্ষতার সাথে এই যে চক্রান্ত, সেই চক্রান্তকে চিহ্নিত করে সঠিক খাতে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা।’

তিনি বলেন, ‘সংসদে জনগণের কল্যাণ, জনগণের সমস্যাগুলো সমাধান করা এবং একইসাথে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করা। আমার সবসময় যে কথা মনে হয়—বিএনপি সম্পর্কে অনেকে অনেক রকম চিন্তা করেন, স্বাভাবিকভাবে মানুষের সেই অধিকার আছে। কিন্তু বিএনপির মূল যে চরিত্র, সেই চরিত্র হলো এটি একটি প্রধান গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি। বিএনপি কোনো বিপ্লবী দল নয়, যদি কেউ বিএনপির কাজে বিপ্লব আশা করেন তাহলে ভুল করবেন। বিএনপি জনগণকে সাথে নিয়ে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে চায়। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে যেতে চায় এবং তারা সেখান থেকেই জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুর সভাপতিত্বে এতে আরো উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাহবুব উল্যাহ প্রমুখ।