রাষ্ট্রব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন ও আল্লাহওয়ালা লোকদের হাতে ক্ষমতা অর্পণের মাধ্যমে দেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে দলমত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুর ২.৩০ টায় পূর্ব রামপুরা নর্থ পয়েন্ট স্কুল মাঠ, কুঞ্জবনে রামপুরা উত্তর থানা জামায়াত আয়োজিত ‘অসচ্ছল পরিবারের মধ্যে ঈদ উপহার’ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
থানা আমির ফজলে আমমেদ ফজলুর সভাতিত্বে ও সেক্রেটারি হাফিজুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন থানা নায়েবে আমির শাহাব উদ্দিন, তারবিয়ত সেক্রেটারি আবুল হাসান পাটোয়ারী, বাইতুল মাল সেক্রেটারি আবুল আল রিয়াদ, অফিস সেক্রেটারি তসলিম আলম, যুব বিভাগ সম্পাদক এস এ এম মনিরুজ্জামান, থানা এইচআরডি সম্পাদক আশরাফুর আলম ও থানা পাঠাগার সম্পাদক কাজী মাহমুদ উল্লাহ আজাদ প্রমুখ।
সেলিম উদ্দিন বলেন, দেশে কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না থাকায় জনগণ রাষ্ট্রের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত। সুশাসনের অভাবেই আমাদের নতুন প্রজন্ম সুশিক্ষা নিতে পারছে না। বিশ্বের অপরাপর রাষ্ট্র শিক্ষাক্ষেত্রে এগিয়ে থাকার কারণে উন্নতির উচ্চশিখরে আরোহণ করেছে। কিন্তু এক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে থাকায় আমরা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছি। একই সাথে আমরা চিকিৎসা ব্যবস্থাও খুবই পশ্চাদপদ। তাই একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদেরকে শিক্ষা ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে কার্যকর উন্নয়ন ঘটাতে হবে।
তিনি সুদভিত্তিক অর্থনীতির ভয়াবহতার কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রচলিত সুদভিত্তিক অর্থনীতিতে বড়লোক আরো বড় হয়, দরিদ্ররা হয় আরো দরিদ্র। তাই সমাজের সকল স্তরে ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে যাকাত ও কর্জে হাসানাভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে হবে। অন্যথায় মানুষের মুক্তি মিলবে না।
তিনি বলেন, জনগণ রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন চায়। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে জনগণ সে পরিবর্তনের পক্ষেই রায় প্রদান করেছে। কিন্তু গায়েবি তৎপরতায় নির্বাচনের ফল পরিবর্তন করা হয়েছে। তারপরও আমরা নতুন সরকারকে সহযোগিতা ও সফল করতে চাই। আমরা সরকারের ভালো কাজের সমর্থন ও মন্দ কাজের গঠনমূলক সমালোচনা এবং প্রয়োজনে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবো।
তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘জনগণের কল্যাণে কাজ করুন। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সময়ের বড় দাবি। একই সাথে নগরজীবনে স্বস্তি ফিরে আনতে মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি। অনির্বাচিত প্রশাসক নয় বরং অবিলম্বে নির্বাচন দিয়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ক্ষমতা হস্তান্তর এখন গণদাবি। নির্বাচনের ক্ষেত্রে অতীতের মতো কোনো ধোঁকাবাজীর আশ্রয় নেয়া যাবে না বরং নির্বাচন হতে হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ’।
মহানগরী উত্তর আমির বলেন, আমরা সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আপনাদের জন্য কিছু উপহার সামগ্রী নিয়ে এসেছি। আমরা আমাদের সীমিত সামর্থ নিয়েই গণমানুষের কল্যাণে সাধ্যমত কাজ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
তিনি কল্যাণ রাষ্ট্রের আবশ্যকতা প্রসঙ্গে বলেন, আমরা দেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য দীর্ঘ পরিসরে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি। দেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করা গেলে জনগণের সকল সমস্যার সমাধান রাষ্ট্রই করবে। মানুষ হয়ে মানুষের কাছে হাত পাততে হবে না।
জামায়াতে ইসলামীর এই নেতা সে কাঙ্ক্ষিত ন্যায়-ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠায় সকলকে ইতিবাচক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।



