বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, ‘প্রান্তিক শ্রেণির জনগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীসহ সকল নাগরিকের সার্বিক সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কিন্তু দেশে কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না থাকায় জনগণ রাষ্ট্রের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’
তিনি বলেন, ‘মানুষের মুক্তির জন্য আমরা রাষ্ট্রব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চাই। আমরা দেশকে কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে দীর্ঘ পরিসরে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি।’
শনিবার (৭ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর উত্তরার আজমপুরের বিডিআর মার্কেটে উত্তরা জামায়াত আয়োজিত গরীব ও অসহায় মানুষের মাঝে বিনামূল্যে ঈদ সামগ্রী তুলে দিতে ‘ইচ্ছে পূরণ’ কর্মসূচি পালনকালে এসব কথা বলেন তিনি।
সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘রাজনীতিকে শুধু রাজনীতি নয়; বরং আর্ত-মানবতার মুক্তি ও গণমানুষের কল্যাণে নিয়োজিত করতে রাজনীতি সংশ্লিষ্ট সকলকে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘আল্লাহ মানুষকে আত্মপূজা ও নিজেকে নিয়ে বিভোর থাকার জন্য দুনিয়াতে প্রেরণ করেননি; বরং খেলাফতের দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছেন। কালামে হাকীমে এসেছে, তোমরাই সর্বোত্তম জাতি যাদের মানুষের কল্যাণের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।’
‘ইচ্ছে পূরণ’ কর্মসূচি সম্পর্কে সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘সমাজের অসহায় মানুষ যাতে মূল ধারার জনগোষ্ঠীর সাথে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, সেজন্যই আমরা এমন জনহিতকর কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। আজ আমরা ২৫ জনকে এই কর্মসূচির আওতায় ইচ্ছেমতো ঈদের বাজার-সওদা করার সুযোগ দিয়েছি। আমাদের এ ইতিবাচক কর্মসূচি আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।’ তিনি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ঈদকে আনন্দঘন করতে সকল রাজনৈতিক দলসহ সমাজের বিত্তবান মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘মানুষের কল্যাণে কাজ আমাদের প্রত্যেকের নৈতিক ও ঈমানী দায়িত্ব। আন্তরিক হলে এটি কোনো কঠিন কাজ নয়। হাদিসে রাসূল সা: বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজে পেট পুরে খায় অথচ প্রতিবেশীরা অভুক্ত থাকে সে মুমিন নয়। তাই আমরা মানুষের দুর্দশা লাঘবে মহানগরী জামায়াতের পক্ষ থেকে দারিদ্র বিমোচন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আত্মকর্মসংস্থানের জন্য নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। এতে অনেকেই উপকৃত হচ্ছেন।’
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নতুন প্রশাসকের উদ্দেশে সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘বিদায়ী প্রশাসক এক হাজার দুই শ’ কোটি টাকা রেখে যাওয়ার কথা বললেও নতুন প্রশাসনের পক্ষে ২৫ কোটি টাকার স্থিতির কথা জানানো হচ্ছে। তাই বিষয়টি নিয়ে সরকারকে জরুরি তদন্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।’ তিনি একটি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন ডিএনসিসি গড়তে অবিলম্বে নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির হাতে নগর প্রশাসনের দায়িত্ব হস্তান্তরের আহ্বান জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও উত্তরা পূর্ব অঞ্চলের পরিচালক জামাল উদ্দিন, উত্তরা পূর্ব অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাহবুবুল আলম, উত্তরা পূর্ব থানার আমির মাহফুজুর রহমান, উত্তরা ১ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার প্রার্থী মাহফুজার রহমান, তুরাগ মধ্য থানার নায়েবে আমির কামরুল হাসান ও বদিউজ্জামাল বকুল প্রমুখ।
উল্লেখ্য, উদ্বোধনী দিনে ২৫ জন অসহায় মানুষকে তাদের ইচ্ছামতো কেনাকেটা করার সুযোগ দেয়া হয় এবং উত্তরা জামায়াত এ ব্যয় পুরোপুরি বহন করে।


