ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে আবারো সিন্ডিকেটের অভিযোগ ওঠায় সরকারের সমালোচনা করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। তার অভিযোগ, অতীতে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে শ্রমিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের যে ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল, এবারো তারই পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি।
পোস্টে তিনি দাবি করেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে এবারো ২৫টি রিক্রুটিং অ্যাজেন্সিকে সুযোগ দেয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কয়েকটির পরিচয়, সক্ষমতা ও নির্বাচনপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার অভিযোগ, সরাসরি রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান না এনে তাদের ‘ডামি’ বা ‘প্রক্সি’ প্রতিষ্ঠানকে কাজে লাগানো হচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ আরো দাবি করেন, সিন্ডিকেটবিরোধী আন্দোলনকারী ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামও রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের অতীত কর্মকাণ্ড ও সংশ্লিষ্টতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেটের কারণে শ্রমিকদের বিদেশ যেতে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তার দাবি, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং অ্যাজেন্সির (বায়রা) সাধারণ সদস্যরা সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন—আগে সিন্ডিকেটে অন্তর্ভুক্তির মূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা থাকলেও এবার তা বেড়ে সাড়ে ১৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের ওপর পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
হাসনাতের পোস্টে বলা হয়, সিন্ডিকেটের কারণে একজন শ্রমিকের মালয়েশিয়া যেতে আট থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। এতে শ্রমিকদের শোষণের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের আলোচিত ব্যক্তি আমিন নূরের সাথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কথিত বৈঠকের বিষয়টিও পোস্টে উল্লেখ করেন হাসনাত। তার দাবি, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের সময় সরকারি সফরসূচির বাইরে একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে আমিন নূরের সাথে তার কথা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
তবে এসব দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, অতীতে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। ২০২৪ সালে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও প্রায় ১৭ হাজার কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে পারেননি বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ কারণে নতুন করে সীমিতসংখ্যক অ্যাজেন্সির হাতে শ্রমবাজার তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
পোস্টের শেষ দিকে সরকারের সমালোচনা করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘সবার প্রত্যাশা ছিল, বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে আর নতুন করে কোনো সিন্ডিকেট হবে না। প্রবাসে ভাগ্য অন্বেষণে যাওয়া নাগরিকদের আর কয়েকজনের ব্যবসায়িক স্বার্থের কাছে জিম্মি হতে হবে না। কিন্তু বিধিবাম! আমার সরকার শিরদাঁড়া সোজা করতে পারল না। আমার রাষ্ট্র তার নাগরিকদের এই দালালতন্ত্র, সিন্ডিকেট ও ভাগ-বাটোয়ারার রাজনীতি থেকে মুক্তি দিতে পারল না।’
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নতুন করে সিন্ডিকেট গড়ে উঠছে কি না, নির্বাচিত রিক্রুটিং অ্যাজেন্সিগুলোর যোগ্যতা ও নির্বাচনপ্রক্রিয়া কী ছিল এবং শ্রমিকদের ওপর সম্ভাব্য আর্থিক চাপ কীভাবে কমানো হবে—এসব প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে।



