ছয়টি শিশু মারা যাওয়ার অজুহাতে একটি মানবিক হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে উল্লেখ করে পটুয়াখালী-২ আসন থেকে নির্বাচিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য মো: শফিকুল ইসলাম মাসুদ প্রশ্ন তুলেছেন যে, দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে ৩০০ শিশু মারা গেলেও স্বাস্থ্যমন্ত্রী পদত্যাগের কথা ভাবলেন না কেন?
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এ প্রশ্ন তুলেন।
শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘একটি মানবিক হাসপাতাল যেখানে ৭০০ বেডের মধ্যে ১৮০টি ফ্রি, প্রতিদিন ২৩টি নরমাল ডেলিভারি হয় এবং রোগী-স্বজনদের বিনামূল্যে খাবার দেয়া হয়—সেখানে মাত্র ছয়টি শিশু মারা যাওয়ার অজুহাতে লাইসেন্স বাতিল করা হলো। অথচ দেশে যখন হামে ৩০০ শিশু মারা গেল, তখন স্বাস্থ্যমন্ত্রী পদত্যাগের কথা ভাবলেন না কেন? ওই হাসপাতালে ২৪৭ জন বিদেশী শিক্ষার্থী এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। তারা স্বাস্থ্যমন্ত্রী বা সচিবের দেখা পাচ্ছেন না। এতে বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।’
প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটের সাফল্য কেবল সংসদ সদস্যদের টেবিল চাপড়ানোর ওপর নির্ভর করে না, বরং সাধারণ মানুষের মুখের হাসিতেই বাজেটের প্রকৃত সফলতা নির্ধারিত হয়।’
তিনি অভিযোগ করেছেন, ‘সংসদে বাজেট নিয়ে আলোচনা শুনলে মনে হয় সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে, কিন্তু বাস্তবে বাজারে গিয়ে মানুষ এর কোনো সুফল পায় না।’
পটুয়াখালী-২ আসনের এ সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমি এলাকায় বাজেটের আগে নাগরিক ভাবনা নামে মতবিনিময় করেছি। সেখানকার মানুষ ও সাংবাদিকরা বলেছেন, সংসদে আপনাদের আলোচনা শুনলে মনে হয় সব সমাধান হয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবে বাজারে গেলে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। সমস্যাগুলো আপনাদের বক্তৃতায় নেই। বাজেটের নীতি নির্ধারণে সাধারণ মানুষ এমনকি সংসদ সদস্যদেরও তেমন কোনো ভূমিকা রাখার সুযোগ দেয়া হয় না।’
তিনি বলেন, ‘এই বাজেট একটি স্বপ্নের বাজেট। কিন্তু আমরা চাই শুধু স্বপ্ন নয়, যেটি বাস্তবায়ন যোগ্য সেটাই। যার কারণে বিরোধী দলের আলোচনা সরকারি দলের পছন্দ হয় না।’
তিনি বলেন, ‘বাজেট আলোচনায় সরকারি দলের সদস্যদের সিংহের ভূমিকায় দেখা যায়। কিন্তু সেবা বা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাদের বিড়ালের ভূমিকায় দেখা যায়।’
বাজেট উপস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির অভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘উন্নত বিশ্বে বাজেট উপস্থাপনে ইনফোগ্রাফিক, ভিজ্যুয়াল ড্যাশবোর্ড ও সহজ টেবিল ব্যবহার করা হয়। কিন্তু আমাদের এখানে সেই ব্যবস্থাপনা নেই।’
শিক্ষা খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শিক্ষায় অগ্রাধিকারের কথা বলা হলেও ৫১১ কোটি টাকার জায়গায় মাত্র ৮৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এমনকি এমপিওভুক্ত দুই লাখ শিক্ষক মে মাসের বেতনও এখন পর্যন্ত পাননি। পরিবার নিয়ে তারা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। ৫ শতাংশ বরাদ্দের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি।’
মেগা প্রজেক্টের দুর্নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমরা সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পাই। ১৫ হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেতু ৪৫ হাজার কোটি টাকায় শেষ হয়। এই মেগা প্রজেক্ট মানেই মেগা দুর্নীতি। দক্ষিণ অঞ্চলের উন্নয়নের কথা বলা হলেও ভাঙ্গা পর্যন্ত রাস্তা সিঙ্গাপুরের মতো মনে হয়, কিন্তু এরপর পটুয়াখালী-কুয়াকাটা পর্যন্ত রাস্তা একেবারে অজপাড়াগাঁয়ের মতো।’
তিনি বলেন, ‘এই সরকার শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো কথা বলছে, অথচ অনেক শিক্ষক নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন না। তাহলে আমরা কি বলব, সরকার শিক্ষাকে এগিয়ে নিচ্ছে নাকি পিছিয়ে দিচ্ছে।’
তিনি ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন, পায়রা বন্দরের উন্নয়ন, নদী ভাঙ্গনসহ নৌপথের উন্নয়ন, মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানান।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি সংসদ সদস্যদের কুয়াকাটা ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, ‘সেখানে গিয়ে রাস্তার অবস্থা দেখে আসুন। মেগা প্রজেক্টের অর্থ তখনই সার্থক হবে যখন তৃণমূলের মানুষ এর সুফল পাবে।’



