জনগণকে সাথে নিয়ে দেশ পুনর্গঠন করতে চাই : তারেক রহমান

আমরা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমরা আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি, জণগণকে সাথে নিয়ে দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই। আমরা এখন দেশকে খাদ্যে সাবলম্বী করে তুলতে চাই। আমাদের বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই।

রাফিক সরকার, ঠাকুরগাঁও
জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান
জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান |নয়া দিগন্ত

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমরা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমরা আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি, জণগণকে সাথে নিয়ে দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই। আমরা এখন দেশকে খাদ্যে সাবলম্বী করে তুলতে চাই। আমাদের বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই। আমাদের মা-বোনদের শিক্ষিত এবং তার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই। কিন্তু এই কাজগুলো করতে দেশের যে মালিক জনগণ, তাদের সহযোগিতা ছাড়া করা সম্ভব নয়।

আজ শনিবার দুপুর ১২টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় বড়মাঠে আয়োজিত বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় দেয়া প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিগত স্বৈরাচারী সরকারের সময় যারা দেশে জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন, তাদের ত্যাগকে কখনো বৃথা যেতে দেয়া যায় না উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এবারের নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করার নির্বাচন নয়। এবারের নির্বাচন হবে আমাদের দেশকে পুনর্গঠন করার নির্বাচন। গত এক যুগ ধরে বাংলাদেশের মানুষ যেমন তাদের রাজনৈতিক অধিকারকে প্রয়োগ করতে পারে নাই, তারা কথা বলার স্বাধীনতা পায় নাই। একইভাবে অর্থনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার অধিকার থেকেও অনেক পিছিয়ে গিয়েছে। দেশে সঠিক পরিমাণে আমাদের তরুণ-যুবকদের যে কর্মসংস্থান হওয়ার কথা ছিল, সে ব্যবস্থা হয়নি। নারীদের যেভাবে মূল্যায়ন করার কথা ছিল, সেটি হয়নি। দেশের কৃষকদের যে সহযোগিতা করার কথা ছিল, সে কাজটিও করেনি বিগত স্বৈরাচার সরকার।

তিনি বলেন, আজ সময় এসেছে আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে যেমন জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচন করব, একইভাবে আমরা দেশ পুনর্গঠনের কাজে হাত দেবো। দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক হচ্ছে নারী, এই নারীকে যদি আমরা আমাদের কর্মের সাথে সম্পৃক্ত করতে না পারি, তাহলে কোনোভাবেই দেশ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না। আপনারা দেখেছেন দেশনেত্রেী খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন তিনি নারীদের উচ্চশিক্ষা বিনামূল্যে করে দিয়েছিলেন। আজ লাখ লাখ নারী শিক্ষিত হয়েছেন। এই মা-বোনদের আমরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই। এই জন্য আমরা বাংলাদেশের প্রত্যেকটি ঘরে ঘরে গৃহিনীদের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। এই কার্ডের অধিকারী হবেন এই দেশের মায়েরা, দেশের নারীরা। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে তাদের কাছে সহযোগিতা পৌঁছে দিতে চাই, যার মাধ্যমে তারা স্বাচ্ছন্দে সংসার চালাতে পারেন। একই সাথে আমরা আমাদের কৃষক ভাইদের কাছে কৃষি কার্ড নামে একটি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই, যার মাধ্যমে তারা সহজে ঋণ পাবে, সার, বীজ, কীটনাশক, ফসলের বীজ পাবে। শুধু তাই নয়, সারা বাংলাদেশে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত যে কৃষি ঋণ আছে, তা আমরা মওকুফ করতে চাই। সেই সাথে বিভিন্ন এনজিওর ক্ষুদ্র ঋণও আমরা পরিশোধ করতে চাই।

তারেক রহমান বলেন, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, পঞ্চগড় যেহেতু কৃষি প্রধান এলাকা তাই আমরা চাই, এই এলাকার মানুষ যাতে সাবলম্বী হতে পারে যে জন্য কৃষকদের সাহায্য সহযোগিতার পাশাপাশি, কৃষিভিত্তিক যত শিল্প আছে সব শিল্প এই এলাকার মধ্যে গড়ে তুলতে চাই, যাতে করে এই এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান হয়। শুধু তাই নয়, এই এলাকার বহু তরুণ যুবক আছে, যাদের কাছে শিক্ষার আলো আছে। তাই আমরা ঠিক করেছি, তাদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তুলতে, যাতে করে তারা দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে।

এসময় উপস্থিত জনগণের কাছে ধানের শীষে ভোট চেয়ে তিনি বলেন, আপনাদের সমর্থন পেলে আমরা আমাদের পরিকল্পনা সমূহ বাস্তবায়ন করতে পারব। এলাকার মানুষের বিভিন্ন দাবি উল্লেখ করে তিনি তা পূরণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। সমাবেশে ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় এলাকার বিভিন্ন আসনে বিএনপির প্রার্থীদের সাথে নিয়ে উপস্থিত জনতার কাছে ধারে শীষে ভোট চান তারেক রহমান।

ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলসগীরসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।