ফেনীতে ১১ দলীয় ঐক্যের পথসভা

গণহত্যার বিচার কোথায়, সরকারের কাছে প্রশ্ন শফিকুর রহমানের

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, আমরা কোনো দলীয় দাবি নিয়ে রাজপথে নামিনি। জনগণের দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছি এবং নতুন ফ্যাসিবাদের কবর দিতে আন্দোলনে নেমেছি। কোনো চোখ রাঙানিকে ভয় পাই না। আমাদের বাংলাদেশ গর্বের বাংলাদেশ, এটিই আমাদের ঠিকানা। বজ্রপাত হলেও আমরা জনগণের সাথে থাকব।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

Location :

Feni
১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের অংশ হিসেবে ফেনীর মহীপালে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান
১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের অংশ হিসেবে ফেনীর মহীপালে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান |সংগৃহীত

সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলের গণহত্যা ও জুলাই গণহত্যার বিচার না হওয়ায় সরকারের কাছে জবাব চেয়েছেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান এমপি। তিনি বলেছেন, জনগণ এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার চায়। কিন্তু সরকার এখনো সেই বিচার করতে পারেনি। জনগণ জানতে চায়, তাদের প্রাণের দাবির এ বিচারগুলোর কী হলো?

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের অংশ হিসেবে ফেনীর মহীপালে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, আমরা কোনো দলীয় দাবি নিয়ে রাজপথে নামিনি। জনগণের দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছি এবং নতুন ফ্যাসিবাদের কবর দিতে আন্দোলনে নেমেছি। কোনো চোখ রাঙানিকে ভয় পাই না। আমাদের বাংলাদেশ গর্বের বাংলাদেশ, এটিই আমাদের ঠিকানা। বজ্রপাত হলেও আমরা জনগণের সাথে থাকব।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের ছয় মাস পার করলেও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করেনি। ক্ষমতা গ্রহণের শুরু থেকেই সরকার জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে আসছে।

সরকারের দলীয়করণের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার নির্লজ্জভাবে দলীয়করণ করবে আর আমরা চুপ করে বসে থাকব—তা হবে না। আমরা প্রতিবাদ করব, গর্জে উঠব। সরকারকে কিছু সময় দেয়া হচ্ছে, তবে এ সময় দীর্ঘ হবে না। চূড়ান্ত ডাক এলে জনগণকে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানান তিনি।

যুবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের লড়াই যুবকদের জন্য। যুবকরাই আগামী দিনে দেশের নেতৃত্ব দেবে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে সব ধর্ম ও বিশ্বাসের মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারবে।

পথসভায় বিরোধীদলীয় চিফ হুইফ নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি জনগণের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না। জনগণ তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং তাদের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। দেশ উল্টোপথে চলছে।

তিনি অভিযোগ করেন, সরকার সংসদে সংসদীয় স্বৈরতন্ত্র কায়েম করেছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলা হলেও বাস্তবে তা নিশ্চিত করা হচ্ছে না। রাজপথে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নিপীড়ন করা হচ্ছে। ১১ দলের নেতাকর্মীদের ওপর আর কোনো হামলা হলে তা প্রতিহত করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না হলে সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না। ঢাকা লংমার্চ থেকে রাজনৈতিক ঘোষণা দেয়া হবে। সরকারকে সময় দেয়া হচ্ছে; এর আগেই ছয় দফা দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, জুলাই গণহত্যার বিচার এখনো হয়নি। আমরা ফ্যাসিবাদ ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই।

তিনি বলেন, গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে। কিন্তু ক্ষমতাসীন সরকারের মুখপাত্র গণভোটকে অবৈধ বলে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে অপমান করেছেন। একই দিনে দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হলেও কেবল গণভোট অবৈধ হতে পারে না। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে হবে।

মামুনুল হক আরো বলেন, বিএনপি বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার পথে এগোচ্ছে। গণভোটের গণরায় বাতিলের চেষ্টা এবং জুলাই সনদ নস্যাৎ করার উদ্যোগ নেয়া হলে জনগণ সরকারকে ‘লালকার্ড’ দেখাবে।

পথসভায় আরো বক্তব্য রাখেন এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রমুখ।

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের বহর ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়।

লংমার্চের রুটে পূর্বনির্ধারিত বিভিন্ন স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মিরসরাইয়ে পথসভা শেষে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে লংমার্চের সমাপনী জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।