হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আগের নাম ‘জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে ন্যাশনাল লেবার পার্টি। দলটির চেয়ারম্যান ও ১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক লায়ন মো. ফারুক রহমান বলেছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করেছিল। তাই বিমানবন্দরটির আগের নাম পুনর্বহাল করতে হবে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কালভার্ট রোডে দলের নিজস্ব কার্যালয়ে ন্যাশনাল লেবার পার্টি ঢাকা মহানগরের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নামকরণ পুনর্বহাল’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
লায়ন মো. ফারুক রহমান বলেন, গত সরকারের আমলে জিয়া পরিবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজনৈতিকভাবে জিয়া পরিবারকে মোকাবেলা করতে না পেরে প্রতিহিংসার পথ বেছে নিয়েছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
আলোচনা সভায় বক্তারা বিমানবন্দরটির ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকার তেজগাঁওয়ের উত্তরে কুর্মিটোলা এলাকায় উড়োজাহাজ অবতরণের জন্য একটি রানওয়ে নির্মাণ করে। পরে স্বাধীনতার পর বিমানবন্দরটির অসমাপ্ত নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করা হয় এবং এটি দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তোলা হয়।
ন্যাশনাল লেবার পার্টি ঢাকা মহানগর সভাপতি মাইদুল ইসলাম আসাদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন আমজনতা দলের সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমান, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন খোকন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আব্দুর রহিম, আমজনতা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আরিফ বিল্লাহ, ন্যাশনাল লেবার পার্টির মুখপাত্র মো. শরিফুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রানা এবং দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সহসভাপতি মো. রাকিব হোসেন,শোয়েব আহমেদ প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, ১৯৮০ সালে বিমানবন্দরটির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। পরবর্তীতে এটি জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নামে পরিচিতি পায়। ২০১০ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার বিমানবন্দরটির নাম পরিবর্তন করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নামকরণ করে।



