শহীদ সজলের মায়ের আর্তনাদে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মির্জা ফখরুল

‘ও তো দু’ ঘণ্টা তিন ঘণ্টা বেঁচে ছিল। ও হয়তো কত চিৎকার করেছে। হে আল্লাহ। আমাকে বাঁচাও আল্লাহ। হাসপাতালে গিয়ে পৌঁছে দাও। আমি বাঁচতে চাই।’

অনলাইন প্রতিবেদক
শহীদ সজলের মা ও মির্জা ফখরুল (ইনসেটে)
শহীদ সজলের মা ও মির্জা ফখরুল (ইনসেটে) |নয়া দিগন্ত

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিটির ছাত্র শহীদ সাজ্জাদ হোসেন সজলের মায়ের আর্তনাদে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার (১৯ জুলাই) রাজধানীর ফার্মগেট কৃষি ইনিস্টিটিউট অব বাংলাদেশ এক স্মরণসভায় এমন কান্নার ভেঙে পড়েন বিএনপি মহাসচিব। গণঅভ্যুত্থান ২৪-এ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় : শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অবদান এবং শহীদদের স্মরণে স্মরণসভা শীর্ষক কর্মসূচির আয়োজন করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল।

শহীদ সজলের মা বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা অবদান রেখেছে । হয়তোবা তারা মাঠে না নামলে স্বৈরাচার সরকারকে প্রতিহত করতে পারতো না। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় যখন বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল তখন আমাদের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা কিন্তু রাস্তায় নেমেছে, যুদ্ধ করেছে, গুলির সামনে দাঁড়িয়েছে। তারা মৃত্যুকে ভয় পায় নাই, তারা যেভাবে জীবন কোরবানি করে গেছে। ধন্যবাদ আমাদের সন্তানদের। প্রত্যেকটা সন্তানের মা বাবাকে ধন্যবাদ জানাই গর্বিত সন্তান পেটে ধরার জন্য। আমার সন্তানরা পেরেছে এদেশকে মুক্ত করতে। আমার সন্তানরা পেরেছে স্বৈরাচার মুক্ত করতে।’

শুধু স্বৈরাচার মুক্ত করলে হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশটাকে সুন্দর করে গড়ে তোলার জন্য সকলের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে একে অপরের হাত ধরে বাংলাদেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তাহলে হয়তোবা শহীদের বাবা-মা বা যারা শহীদ বীর সন্তানরা আছে তাদের বাবা-মার মন শান্তি পাবে যে, সুন্দর একটা দেশ তারা উপহার দিতে পেরেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে হয়তো মারা যাওয়ার আগে ভেবেছে, আমার জামা কাপড় দেখে, চেহারা দেখে বাবা মা লাশটা নিয়ে দাদার পাশে কবরটা দিয়ে সান্ত্বনামূলক শান্তি নিবে। সান্ত্বনা পাবে আমার ছেলে দেশের জন্য জীবন দিয়েছে। কিন্তু আমার ছেলে গুম করতে চেয়েছিল। তাদের পুড়ে ছাই করে দেয়া হয়েছে। কোন চিহ্ন যেন না থাকে। যেন চিহ্ন না পায়। সেজন্য কাজটা করা হয়েছিল। ছয়জন সন্তান ওখানে যখন পোড়া হয়েছিল, এত জনগণ ছিল কেউ এগোতে পারে নাই। পানি দিতে গেছে তাদেরকেও গুলি করছে। এমন ভয়াবহ অবস্থা ছিল।’ এগুলো বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন শহীদ সজলের মা।

তিনি বলেন, ‘কি মনে হয় যে আমার সন্তানটা সাথে সাথে গুলি খেয়ে মারা গেছে? ও তো দু’ ঘণ্টা তিন ঘণ্টা বেঁচে ছিল। ও হয়তো কত চিৎকার করেছে। হে আল্লাহ। আমাকে বাঁচাও আল্লাহ। হাসপাতালে গিয়ে পৌঁছে দাও। আমি বাঁচতে চাই। আমাকে কেউ নিয়ে যাও। আমি আমার মেয়েকে দেখতে চাই, আমার মাকে দেখতে চাই, আমার বাবাকে দেখতে চাই, আমার পরিবারকে দেখতে চাই। কিন্তু আমার সন্তানকে সেই সুযোগ দেয় নাই। তাকে ভ্যান গাড়িতে উঠিয়ে আগুন দিয়েছে। আমার সন্তানের পুরো দেহে শেষ করে দিয়েছে। আমার সন্তান কিভাবে সহ্য করেছে?’

‘সন্তানের খোঁজ হাসপাতালে থেকে হাসপাতালে’ পাগলের মতো খুঁজি পাই না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তখন হয়তো আমার সজল চিৎকার করে বলছে’ মা আমাদেরকে নির্মভাবে পুড়িয়ে দিচ্ছে। আমার মা-বাবা পাগল হয়ে যাবে আমাকে খুঁজতে খুঁজতে। কেউ জানিয়ে দেন আমার বাবা-মাকে। আমাদের এখানে পোড়াচ্ছে আম্মু এগুলো বলে আর্তনাদ করতে থাকে শহীদ সজলের মা। এ সময় সভা নীরব হয়ে যায় এবং সবাই নীরব কান্না করতে থাকে।

সাভার ক্যান্টনমেন্ট থেকে সেনাবাহিনী আশুলিয়া থানার ছাত্রলীগ-পুলিশ লীগ ধরে নিয়ে গেল, সেই আসামিগুলোকে কোথায় নিয়ে গেল? সেই আসামিগুলোকে কে নিরাপত্তা দিয়েছে? সেই আসামিগুলোকে নিরাপত্তা কে দিলো? প্রশ্ন তোলেন তিনি।