বিরোধীদলীয় নেতা

‘সংসদে দাঁড়িয়ে আমাদের কথাগুলো যেন দায়িত্বশীল আচরণ হয়’

তার আগে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো: রাজীব হাসান জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার দেয়া তথ্যের কঠোর সমালোচনা করেন।

সংসদ প্রতিবেদক
সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান
সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান |ফাইল ছবি

সরকারি দলের সদস্যদের উদ্দেশ করে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে আমরা যখন কথা বলব, তখন আমাদের (সবার) কথাগুলো যেন দায়িত্বশীল আচরণ হয়।’

রোববার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের অধিবেশনের ২১তম দিনে সরকারি দলের এক সংসদ সদস্যের বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তার আগে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো: রাজীব হাসান জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার দেয়া তথ্যের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যেখানে সরকারি গেজেটে ৮৪৪ জন শহীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১৪০০ শহীদের কথা বলা হয়েছে, সেখানে বিরোধীদলীয় নেতা গত ১৪ এপ্রিল এক অনুষ্ঠানে কিভাবে ১২০০ শহীদের বাসায় যাওয়ার দাবি করেন। একে তিনি ইতিহাসের নতুন বিকৃতি এবং ‘শহীদ ব্যবসা’র অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন।

জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘সংসদ সদস্য আমাকে কোট করে একটি কথা বলেছেন। বিষয়টি জুলাই শহীদদের সাথে সম্পর্কিত। তিনি বলেছেন, শহীদদের সংখ্যা যদি ৮০০ প্লাস হয়, তাহলে আমি ১ হাজার ২০০ বাড়িতে গেলাম কিভাবে? ফ্যামিলিতে গেলাম কিভাবে? ওনাকে এখানে আমি এখন দেখছি না। তিনি থাকলে বলতাম যে, হিসাবটা প্রতিমন্ত্রীর কাছ থেকে বুঝে নেয়ার জন্য। সালাউদ্দিন টুকু সাহেব তার বক্তব্যে নিজেই বলেছেন যে, শুধু জাতীয়তাবাদী দল এবং তার অঙ্গসংগঠনের লোকেরাই শহীদ হয়েছে ১ হাজারের ঊর্ধ্বে। আমি যদি তার কথাটাই সমর্থন করি, তাহলে হিসাব এখান থেকেই তিনি পাবেন। আমার কাছে কষ্ট করে আসতে হবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি আনঅথেন্টিক কোনো কথা বলিনি। এই ব্যাপারে আমাদের কাছে একটা কমপ্লিট প্রোফাইল আছে। এখানে উপস্থিত অনেকে আমাদের সেই প্রোফাইল পেয়েছে। আমাদের ওয়েবসাইটে অ্যাভেইলেবল। চেক, ক্রস চেক করে আমরা নিশ্চিত হওয়ার পরেই তালিকাগুলো করেছি। এই ব্যাপারে আমার কথা নয়, এই দেশের কোনো সংস্থার উদ্ধৃতি নয়; জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি বলেছে, এই সংখ্যাটা ১ হাজার ৪৫১।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় যখন যাই, কিছু মানুষ আসেন; তারা মুখের দিকে তাকিয়ে থাকেন। এরপর বলেন, আমার বাবাটার কোনো খবর আপনাদের কাছে আছে কি না? ওই যে দুই দিন ইন্টারনেট বন্ধ করে মানুষ খুন করে গুম করা হয়েছে, তাদের হিসাব তো কেউ দিচ্ছে না। এ সংখ্যা তো আরো বেশি।’

তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে আমরা যখন কথা বলব, তখন আমাদের কথাগুলো যেন দায়িত্বশীল আচরণ হয়।’