রিজভী

খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছেন হাসিনা

‘১৯৮৬ সাল থেকে তার মৃত্যু পর্যন্ত খালেদা জিয়া জনগণকে দেয়া অঙ্গীকার রক্ষা করেছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন—রাজনীতি মানে প্রতারণা নয়, রাজনীতি মানে মিথ্যা অঙ্গীকার নয়। রাজনীতি মানে জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হবে, তা বাস্তবায়ন করা। এই নৈতিক রাজনীতির একমাত্র প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তিত্ব ছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।’

অনলাইন প্রতিবেদক
খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিএফইউজে ও ডিইউজে’র দোয়া মাহফিল ও শোকসভায় রুহুল কবির রিজভী
খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিএফইউজে ও ডিইউজে’র দোয়া মাহফিল ও শোকসভায় রুহুল কবির রিজভী |নয়া দিগন্ত

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সন্দেহ প্রকাশ করছি—জনগণ সন্দেহ প্রকাশ করছে—কারাগারে খালেদা জিয়াকে যথাযথ ডায়াগনোসিস ও চিকিৎসা দেয়া হয়েছে কি না। শেখ হাসিনা ও তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ এখন স্পষ্ট। খালেদা জিয়ার যেসব অসুখ ছিল, সেগুলোর যে চিকিৎসা প্রয়োজন ছিল, তা দেয়া হয়নি। তাকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে—এটা আমরা অনুভব করছি। তিনি (খালেদা জিয়া) নিজেও তা বুঝতে পেরেছিলেন। পরিবার বলেছে, দল বলেছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ বলেছে, এমনকি দেশের গুণীজনরাও বলেছেন—কিন্তু শোনা হয়নি।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ডিইউজে’র দোয়া মাহফিল ও শোকসভায় এসব কথা বলেন তিনি।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া অত্যন্ত বিবেচনাবোধের সাথে কথা বলতেন। তার অভিজ্ঞতা, প্রাজ্ঞতা ও রাজনৈতিক পরিপক্বতা তাকে আজকের জাতীয় রাজনীতিতে একটি আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তার রাজনীতির প্রধান প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে তাকে নিয়ে শুধু কটুক্তিই নয়, কুরুচিপূর্ণ ও অশ্লীল ভাষাও ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু তিনি এর জবাব দিয়েছেন চরম সৌজন্য ও সংযমের সাথে—অনেক সময় কোনো জবাবই দেননি। এতে সাধারণ মানুষের কাছে তার মর্যাদা আরো বেড়েছে। আর যারা এ ধরনের অশালীন ভাষা ব্যবহার করে, তারা ক্রমাগতভাবে নিচে নেমে যায়—এটা রাজনীতির একটি বাস্তব সত্য। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমাদের দেশের অনেক রাজনীতিবিদ এ বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারেন না।’

তিনি বলেন, ‘একের পর এক অসভ্য বক্তব্যের মুখেও বেগম খালেদা জিয়া সংযম হারাননি। তিনি ২০১৭ সালে লন্ডনে গিয়েছিলেন। তখন ওবায়দুল কাদের প্রায় প্রতিদিনই বলতেন—তিনি আর দেশে ফিরবেন না, বিদেশেই থেকে যাবেন, চলমান মামলাগুলো মোকাবেলা করতে চান না। অথচ তিনি জানতেন, এ মামলাগুলোর পরিণতি কী হতে পারে। তিনি জানতেন, তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কতটা নিষ্ঠুর, কতটা প্রতিশোধপরায়ণ হতে পারে। বড় ধরনের নির্যাতনের মুখে পড়বেন—এ কথাও তিনি জানতেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘একটি পরিকল্পিত অ্যাজেন্ডা অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেয়া হলো। সেখানে তাকে কোনো উন্নত চিকিৎসা দেয়া হলো না। তিনি ক্রমাগত অসুস্থ হয়ে পড়লেন। যিনি হেঁটে কারাগারে প্রবেশ করেছিলেন, তিনি হুইলচেয়ারে করে বেরিয়ে এলেন। উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি। এমনকি দেশের ভেতরেও তাকে কোনো ভালো হাসপাতালে নেয়া হয়নি। পিজি হাসপাতালে নেয়া হলেও সেখানেও অভিজ্ঞ ও দক্ষ চিকিৎসকদের অবাধে তার চিকিৎসা করতে দেয়া হয়নি। অনেক চিকিৎসক আমাকে জানিয়েছেন—তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের পেছনে ডিজিএফআই ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো লেগে থাকত, হুমকি ও চাপ সৃষ্টি করত।’

‘এই সব পরিস্থিতি তিনি অতিক্রম করেছেন কেবল দেশের মানুষের জন্য, দেশের জন্য। তার মধ্যে ছিল অসীম ধৈর্য, আত্মসংযম ও আত্মত্যাগ। বড় বড় সঙ্কট ও শোকের মধ্যেও তিনি নিজেকে অটল রাখতে পেরেছেন এবং সেগুলো মোকাবেলার দৃঢ় প্রত্যয় দেখিয়েছেন।’

রিজভী বলেন, ‘বিএনপিকে দমন করে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়ার বহু চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। কারণ এর নেতৃত্বে ছিলেন অটল ও দৃঢ়চেতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি রাজনীতিতে একটি নৈতিক উচ্চতা যুক্ত করেছিলেন। রাজনীতিবিদ মানেই যে কথা ও কাজের কোনো মিল নেই—এ ধারণা তিনি ভেঙে দিয়েছেন। ১৯৮৬ সাল থেকে তার মৃত্যু পর্যন্ত তিনি জনগণকে দেয়া অঙ্গীকার রক্ষা করেছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন—রাজনীতি মানে প্রতারণা নয়, রাজনীতি মানে মিথ্যা অঙ্গীকার নয়। রাজনীতি মানে জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হবে, তা বাস্তবায়ন করা। এই নৈতিক রাজনীতির একমাত্র প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তিত্ব ছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।’