মোহাম্মদপুরে জামায়াত আমির

ঢাকা-১৩ আসনে রিকশাই জুলাই আকাঙ্ক্ষার প্রতীক

মামুনুল হকের ‘রিকশা’ প্রতীকের সমর্থনে মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক
বক্তব্য রাখছেন জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমান
বক্তব্য রাখছেন জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমান |নয়া দিগন্ত

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রতীক ‘রিকশা’কে জুলাই আকঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-১৩ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী আল্লামা মামুনুল হকের ‘রিকশা’ প্রতীকের সমর্থনে মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ঢাকা-১৩ আসনে রিকশাই ১১ দলের প্রতীক, জনগণের প্রতীক। এটি জুলাই আকাঙ্ক্ষার প্রতীক, তরুণ প্রজন্ম ও নারী সমাজের প্রতীক এবং আধিপত্যবাদ বিরোধী প্রতীক। আপনারা আল্লামা মামুনুল হককে রিকশা মার্কায় ভোট দিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবেন। আল্লাহর রহমতে এবং জনগণের ভালোবাসায় ১১ দল বিজয়ী হলে ঢাকা-১৩ আসনবাসী একজন সাহসী ও মর্যাদাবান অভিভাবক পাবে ইনশাআল্লাহ।’

ঢাকা-১৩ আসনের প্রার্থী আল্লামা মামুনুল হক তার বক্তব্যে বলেন, ‘প্রিয় ঢাকা-১৩ বাসী, আপনারা আমাকে বিজয়ী করে সংসদে পাঠালে আমি সেখানে কোরআনের কথা বলার চেষ্টা করব। আমি নির্বাচিত হলে আর কোনো মায়ের সন্তানকে মাদকের করাল গ্রাসে ধ্বংস হতে দেব না। আপনাদের একটি মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত ঢাকা-১৩ আসন উপহার দেব।’

প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘একটি দল মোহাম্মদপুরের মতো জায়গায় এমন একজন প্রার্থী দিয়েছে, যিনি পারিবারিকভাবে একজন অস্ত্র ব্যবসায়ীর ছেলে। তাকে প্রার্থী করে মোহাম্মদপুরকে আবারো সন্ত্রাস ও গুন্ডামির এলাকায় পরিণত করার চেষ্টা করা হলে আপনাদের সাথে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সারাদেশের মতো ঢাকা-১৩ আসনেও ১১ দলের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মোহাম্মদপুরবাসী যেমন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, আগামী ১২ তারিখেও রিকশা মার্কায় ভোট দিয়ে মামুনুল হককে বিজয়ী করে ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে তারা ১১ দলকে বিজয়ী করবে ইনশাআল্লাহ।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘আল্লামা মামুনুল হককে রিকশা মার্কায় বিপুল ভোটে বিজয়ী করতে হবে। রিকশা ও ১১ দলের গণজোয়ার দেখে অনেকে পেছনের দরজা দিয়ে সংসদে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। তরুণ সমাজকে আগামী ১২ তারিখ ভোটকেন্দ্র পাহারা দিয়ে সব ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিং ও কারচুপি রুখে দিতে হবে।’

ঢাকা-১৩ নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা মাহফুজুল হকের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, নায়েবে আমির মাওলানা কোরবান আলী কাসেমী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মোবারক হুসাইন, ঢাকা মহানগর উত্তরের শূরা সদস্য শাফিউর রহমান, এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আকরাম হোসাইন, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মিনহাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা তাওহীদুজ্জামান, ঢাকা-১৩ আসনের ১১ দলীয় লিয়াজোঁ কমিটির আহ্বায়ক মুফতি আশরাফুজ্জামান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মোহাম্মদপুর থানা শাখার নায়েবে সদর মিজানুর রহমানসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন এবং রিকশা মার্কাকে বিজয়ী করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সমাবেশ শেষে মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মোহাম্মদপুর ঈদগাহ মসজিদ থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে তিন রাস্তার মোড়ে এসে শেষ হয়। হাজার হাজার নেতাকর্মী এতে অংশ নেন।