হাসিনাকে বক্তব্য দেয়ার সুযোগটি ভারতীয় নীতি-নির্ধারকদের পরিকল্পিত : রিজভী

অত্যন্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ও পরিকল্পিতভাবে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেয়া হয়েছে। এই সংবাদ যখন বাংলাদেশ সরকার পেয়েছে, তখন সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি ভারতের সরকারকে অবহিত করেছে, কিন্তু সেটিতে সাড়া না দিয়ে তারা ৫ই আগস্ট—তার পতনের দিন তাকে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ করে দিল।

অনলাইন প্রতিবেদক

Location :

Dhaka
কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী
কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী |নয়া দিগন্ত

গ্লোবাল জার্নালিস্ট ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার প্রোগ্রামে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেয়ার বিষয়টি ভারতের নীতি-নির্ধারকদের অ্যারেঞ্জমেন্টেই করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ শেষে এ মন্তব্য করেন তিনি।

রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে পলাতক একজন আসামি। তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে, তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে, নানা খুনের মামলা ও দুর্নীতির মামলায় তার বিচার চলছে। তিনি একটি দেশে পালিয়ে গেছেন। ২০১৩ সালের এক্সট্রাডিশন আইনের মাধ্যমে তাকে ফেরত দেয়া যায়। এজন্য সরকার চিঠি দিয়েছে, কিন্তু সেই চিঠির কোনো জবাব দেয়া হয়নি। একজন পলাতক আসামিকে প্রত্যর্পণের জন্য, তাকে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য যে আইন, সেই আইনে দুই দেশ সই করেছে—এগ্রিমেন্ট করেছে। অথচ তারপরও তাকে ফিরিয়ে না দিয়ে তাকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে। এটা আমি মনে করি আমাদের জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি একটা অপমান। এই অপমান পার্শ্ববর্তী দেশ—যাকে আমরা বন্ধু রাষ্ট্র বলি, আমরা সমমর্যাদার ভিত্তিতে পরস্পর অবস্থান করব—আর অন্যান্য দেশ যারা রয়েছে, সেখানে একজন পলাতক আসামিকে তার রাজনৈতিক বক্তব্য তুলে ধরার জন্য সুযোগ করে দেয়া হলো তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের সহযোগিতায়— এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমরা মনে করি, আমাদের মিউচুয়াল ট্রাস্ট, মিউচুয়াল রেসপেক্টকে সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষিত করা হয়েছে। এবং আমাদের যে ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স, সেই ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্সেও এটা এক ধরনের হস্তক্ষেপ বা ইন্টারফারেন্স।’

তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ও পরিকল্পিতভাবে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেয়া হয়েছে। অথচ এই সংবাদ যখন আমরা পেলাম— বাংলাদেশ সরকার পেয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি অবহিত করেছে ভারতের সরকারকে, কিন্তু সেটিতে সাড়া না দিয়ে ভারত সরকার ৫ই আগস্ট—যেদিন তার পতনের দিন, যেদিন এই দেশে একটি তুমুল আন্দোলন, গণতন্ত্রের জন্য, অবাধে আমাদের রাজনীতি করার সুযোগের জন্য, এদেশের জনগণের কথা বলার জন্য, আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে যে গণজাগরণ ও মহাবিপ্লব ৫ই আগস্টের দিনে সম্পন্ন হলো এবং তিনি পালিয়ে গেলেন—সেই দিনেই এই প্রোগ্রামটি দিল্লিতে হচ্ছে আর সেখানে শেখ হাসিনাকে বক্তৃতা করতে দেয়া হচ্ছে, এটা সম্পূর্ণরূপে ভারতীয় নীতি-নির্ধারকদের পরিকল্পিত একটি বিষয়।’

রিজভী বলেন, ‘যে গণবিপ্লবে হাজারেরও বেশি তরুণ, কিশোর ও শিক্ষার্থীদের জীবন চলে গেল, তাদের রক্ত ঝরল রাজপথে, বাংলাদেশে এক ভয়ংকর বিয়োগান্ত ঘটনার মধ্য দিয়ে পালাতে বাধ্য হলো এক ভয়ংকর রক্তপিপাসু স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট—তাকে পার্শ্ববর্তী একটি দেশ, যেটি পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্র বলে তারা নিজেরা দাবি করে, সেই দেশে তাকে রাজনীতি করার সুযোগ দেয়া হচ্ছে, কথা বলার সুযোগ দেয়া হচ্ছে! ওই দিন—যেদিন তার পতনের দিন, যেদিন ভয়ংকর রক্তঝরানো পথ পেরিয়ে বিপ্লব সাধিত হলো, সেই দিন তাকে বক্তব্য রাখতে দেয়া হচ্ছে। অর্থাৎ, ওই শহীদদের প্রতি, যাদের রক্ত ঝরিয়েছে শেখ হাসিনা, তাদের প্রতি অপমান করার জন্যই এই সুযোগটা করে দেয়া হয়েছে শেখ হাসিনাকে কথা বলার জন্য। আমি আবারো এই ঘৃণ্য প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাই।’

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘বাংলাদেশে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর যখন উদ্যোগ নেয়া হয়, ঠিক ওই সময় আন্তর্জাতিক নানা চক্রান্ত শুরু হয়। জিয়াউর রহমান যখন এই জাতিকে ক্ষুধামুক্ত করেছেন, এই জাতিকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছেন খাদ্যে এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র এনেছেন, তখন তাকে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক চক্রান্তে হত্যা করা হয়েছে। ঠিক এখনো নানা পরিকল্পনা চলছে।’